মার্কিন ভূখণ্ডে দাঁড়িয়েই ভারতের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য পারমাণবিক হামলার হুমকি মুনিরের

মার্কিন ভূখণ্ডে দাঁড়িয়ে ভারতের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য পারমাণবিক হামলার হুমকি দিলেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। টাম্পায় এক ব্ল্যাক-টাই ডিনারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমরা একটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। যদি মনে করি আমরা শেষ হয়ে যাচ্ছি, তবে অর্ধেক দুনিয়াকে আমাদের সঙ্গে নিয়ে যাব।” বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো তৃতীয় দেশের বিরুদ্ধে মার্কিন মাটি থেকে এমন পারমাণবিক হুমকি এই প্রথমবার।
মার্কিন সফরে এসে আসিম মুনির দ্বিতীয়বারের মতো সরাসরি ভারতকে নিশানা করলেন। সিন্ধু নদীর জল বণ্টন নিয়ে তিনি বলেন, “ভারত যদি বাঁধ তৈরি করে, আমরা সেটি দশটি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ধ্বংস করব। সিন্ধু নদী ভারতের পারিবারিক সম্পত্তি নয়।” তিনি আরও দাবি করেন, পাকিস্তানের কাছে ক্ষেপণাস্ত্রের কোনো ঘাটতি নেই।
ভারত-পাকিস্তানের তুলনা করতে গিয়ে তিনি ‘মার্সিডিজ বনাম ডাম্প ট্রাক’ উপমা ব্যবহার করেন। মুনির বলেন, “ভারত যেন হাইওয়েতে ছুটে চলা এক চকচকে মার্সিডিজ, আর আমরা কাঁকর বোঝাই ডাম্প ট্রাক। যদি ট্রাকটি গাড়িটিকে ধাক্কা মারে, শেষমেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে কে?”
মুনির অভিযোগ করেন, ভারত নিজেকে বিশ্বনেতা হিসেবে তুলে ধরতে চাইলেও বাস্তবে তার চিত্র ভিন্ন। তিনি কানাডায় শিখ নেতার হত্যাকাণ্ড, কাতারে আট ভারতীয় নৌ-অফিসারের গ্রেপ্তার এবং কুলভূষণ যাদব মামলার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এগুলি ভারতের আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসে জড়িত থাকার “অকাট্য প্রমাণ”।
কূটনৈতিকভাবেও মুনির যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। তিনি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) বিদায়ী প্রধান জেনারেল মাইকেল কুরিলার অবসর অনুষ্ঠান এবং নতুন প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এছাড়া, মার্কিন জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনের সঙ্গে বৈঠক করে তাঁকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানান।
গত জুনে তাঁর আগের মার্কিন সফরে মুনির প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে মিলিত হয়েছিলেন, যার পর উভয় দেশের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির ঘোষণা আসে। এই ঘটনার কিছুদিন আগেই এক মার্কিন জেনারেল পাকিস্তানকে ‘সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে অসাধারণ অংশীদার’ হিসেবে প্রশংসা করেছিলেন। এই সফরে মুনিরের কঠোর মন্তব্য ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।