কলকাতায় আওয়ামি লিগের ‘গোপন কার্যালয়’? শুরু জোর বিতর্ক! অবশেষে মুখ খুললেন ইউনূস সরকার

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে কলকাতা থেকে শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের কার্যক্রম পরিচালনা নিয়ে। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কলকাতায় গোপনে একটি পার্টি অফিস খুলে সেখান থেকে কার্যক্রম চালাচ্ছে দলটি। এই প্রতিবেদন সামনে আসার পর থেকে দুই বাংলাতেই শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। এই ইস্যুতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেওয়ায় জল্পনা আরও বেড়েছে।

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় সাধারণত ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে হলেও, শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর দলটির রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ধারণা করা হচ্ছে, কলকাতা থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার পরিকল্পনা করছে দলটি।

রবিবার ঢাকায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এক সংবাদ সম্মেলনে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, “আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তারা দেশের বাইরে থেকে রাজনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে পরিস্থিতি অস্থির করার চেষ্টা করছে। বিষয়টি আমরা পর্যবেক্ষণ করছি।”

অন্যদিকে, এই খবর প্রকাশের পর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব এক বিবৃতিতে তা পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কলকাতায় অফিস খোলার খবরটি “ভিত্তিহীন ও মিথ্যা”। বরং দখলদার সরকার গুজব ছড়িয়ে সারা দেশে আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর ও লুটপাট করছে। এমনকি কেন্দ্রীয় কার্যালয় দখলেরও চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এই বিতর্কে পলাতক মেজর জিয়াও যুক্ত হয়েছেন। হাসিনাবিরোধী অভ্যুত্থান ঘটিয়ে সেনাবাহিনী থেকে পলাতক এই মেজর তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, “কলকাতায় আওয়ামী লীগের অফিস হয়েছে! তাহলে মণিপুর, খালিস্তান আর কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামী গ্রুপগুলোর অফিস এ দেশে হবে না কেন?”

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন প্রকাশের পর রাজনৈতিক মহলে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, কলকাতায় কি সত্যিই আওয়ামী লীগের কোনো গোপন কার্যালয় রয়েছে, নাকি এটি কেবলই রাজনৈতিক প্রচারণা এবং গুজব? এই ঘটনা দুই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।