‘আসল দোষী সাজা পায়নি…, কেন্দ্রীয় সরকার কী করছে?’- RG kar-এ চিকিৎসক খুন নিয়ে বিস্ফোরক চিরঞ্জিৎ

আরজি কর হাসপাতালের এক চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার এক বছর পেরিয়ে গেলেও আসল দোষীরা এখনও অধরা বলে অভিযোগ করেছেন নির্যাতিতার বাবা-মা। এই পরিস্থিতিতে এবার মুখ খুললেন তৃণমূল বিধায়ক তথা অভিনেতা চিরঞ্জিত চক্রবর্তী। তাঁর মন্তব্য ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।

চিরঞ্জিত চক্রবর্তী বলেন, “ধর্ষণ-খুনের প্রকৃত অপরাধীরা ধরা পড়েনি।” একইসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “কেন্দ্রীয় সরকার কী করছে?” তাঁর এই মন্তব্যের পর নির্যাতিতার বাবার প্রতিক্রিয়া ছিল, “প্রথমে যা বলতে ইচ্ছে করছে, তা হলো, চিরঞ্জিত চক্রবর্তীর ওপর আবার শাস্তির খাঁড়া নেমে আসবে না তো?”

আরজি করের ঘটনায় নির্যাতিতার মায়ের কপালে আঘাত লাগার প্রসঙ্গে চিরঞ্জিত বলেন, “কে করেছে তা বোঝা যাচ্ছে না। যাঁরা ওঁদের নিয়ে গিয়েছিলেন, তাঁদের নিরাপত্তা দেওয়া উচিত ছিল। বিজেপি ঘিরে ছিল, সেই ঘেরাটা সঠিক হয়নি বলেই তো বুঝতে পারছি। তার মধ্যে কে কাকে মেরেছে বলতে পারব না। তবে আমি খুব দুঃখিত, আমি মর্মাহত, যে ওঁর লেগেছে। একেবারেই উচিত ছিল না।”

এরপর চিরঞ্জিত জোর দিয়ে বলেন, “আমি আমার দিক থেকে বলতে পারি, এর কিন্তু সমাধান হতেই হবে। আমার মনে হয় না, দোষীরা এখনও সাজা পেয়েছে। আমার মনে হয় না, কারও মনে হয় না। সিবিআই চোখে বন্ধ করে আছে।”

তৃণমূল বিধায়কের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে নির্যাতিতার বাবা বলেন, “আমার মেয়ের তদন্তের বিষয়ে বলতে পারি, কলকাতা পুলিশ, আরজি কর হাসপাতাল ও তৃণমূলের দল, ওই ৯ তারিখে যে অত্যাচার আমাদের ওপর চালিয়েছিল, তার সমাধান যদি না হয়, আমরা এর বিচার পাব না। বিশ্বের সেরা তদন্ত কমিটিও যদি আসে, এর বিচার পাওয়া মুশকিল আছে। কলকাতা পুলিশকে আগে সঠিকভাবে তথ্যপ্রমাণ দিতে হবে।”

খুন হওয়া চিকিৎসকের বাবা আরও বলেন, “আদালতের চাপেই সিবিআইকে দিয়ে কাজ করিয়ে নেওয়া যায়। কিন্তু সেই আদালতেই রাজ্য সরকার আমাদের বিরোধিতা করছে। আমরা যাতে ন্যায়-বিচার না পাই, সেই ব্যবস্থা প্রতিটা মুহূর্তে করছে। এই ৯ আগস্ট রাজ্য সরকার প্রমাণ করে দিল, ২০২৪-এ তোমরা যেখানে ছিলে, আমরা যেখানে ছিলাম, সেখানেই আছি, তোমরা আমাদের কিছুই করতে পারনি।”

এই ঘটনায় একদিকে যেমন চিরঞ্জিত চক্রবর্তী সিবিআই এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, অন্যদিকে নির্যাতিতার বাবা রাজ্য সরকার এবং স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ এনেছেন। এই পরিস্থিতিতে ঘটনার তদন্ত এবং ন্যায়-বিচার নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।