বিশেষ: ১৫ না ১৬ অগাস্ট, জন্মাষ্টমীতে কখন পুজো করলে মিলবে শুভ ফল, জানুন সময় সূচি

প্রতি বছর ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে পালিত হয় শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী। এই বিশেষ দিনটিতেই ভগবান শ্রীকৃষ্ণ রোহিণী নক্ষত্রে রাত ১২টায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন বলে বিশ্বাস করা হয়। সারা দেশে ভক্তরা এই পবিত্র দিনটি অত্যন্ত নিষ্ঠা ও ভক্তির সঙ্গে উদযাপন করেন। এবছর, ২০২৫ সালের ১৬ আগস্ট এই উৎসব পালিত হবে।
শুভ মুহূর্ত ও পুজোর সময়
জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, এবছর জন্মাষ্টমীর অষ্টমী তিথি ১৫ আগস্ট রাত ১১:৪৯ মিনিটে শুরু হবে এবং ১৬ আগস্ট রাত ৯:৩৪ মিনিটে শেষ হবে। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পুজো করার জন্য সবচেয়ে শুভ সময়টি হলো রাত ১২:০৪ থেকে ১২:৪৭ পর্যন্ত, যার মোট সময়কাল ৪৩ মিনিট। এই সময়ের মধ্যে গোপালের পুজো করলে সর্বাধিক শুভ ফল পাওয়া যায় বলে মনে করা হয়।
এছাড়াও, এই বছর রোহিণী নক্ষত্রের তিথি শুরু হবে ১৭ আগস্ট ভোর ৪:৩৮ মিনিটে এবং তা চলবে ১৮ আগস্ট ভোর ৩:১৭ মিনিট পর্যন্ত।
পুজোর পদ্ধতি
জন্মাষ্টমীর দিনে ভক্তরা উপবাস রাখেন এবং বিশেষ পুজোর আয়োজন করেন। পুজোর নিয়মাবলী অনুযায়ী, সূর্যোদয়ের আগে স্নান সেরে পরিষ্কার পোশাক পরিধান করতে হয়। এরপর শ্রীকৃষ্ণের মূর্তি বা ছবিকে গঙ্গাজল ও দুধ দিয়ে অভিষেক করা হয়। নতুন পোশাক পরিয়ে ফুল, ফল, মিষ্টি এবং চিনির মিছরি নিবেদন করা হয়। মধ্যরাতে, যখন শ্রীকৃষ্ণের জন্ম হয়েছিল, তখন বিশেষ আরতি এবং ভজন-কীর্তন করা হয়। ভক্তরা এই সময় পূর্ণ ভক্তি নিয়ে ঈশ্বরের উপাসনা করেন।
ঐতিহ্য ও তাৎপর্য
জন্মাষ্টমী শুধুমাত্র ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মবার্ষিকী নয়, বরং এটি ধর্ম, নীতি এবং প্রেমের আদর্শকেও তুলে ধরে। এই দিনটি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রাসলীলা, ভজন এবং বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অত্যন্ত আনন্দ ও উদ্দীপনার সঙ্গে উদযাপিত হয়।
পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী, মথুরার অত্যাচারী রাজা কংসকে বধ করার জন্যই শ্রীকৃষ্ণের জন্ম হয়েছিল। কংস তার বোন দেবকীর অষ্টম পুত্র তাকে হত্যা করবে এমন ভবিষ্যদ্বাণী শুনে দেবকী ও তার স্বামী বাসুদেবকে কারাগারে বন্দী করে। কিন্তু শ্রীকৃষ্ণের জন্মের রাতে, অলৌকিকভাবে কারাগারের তালা খুলে যায় এবং বাসুদেব শিশু কৃষ্ণকে গোকুলে নন্দের বাড়িতে রেখে আসেন। পরে, শ্রীকৃষ্ণ কংসকে হত্যা করে অধর্মের অবসান ঘটান এবং পৃথিবীতে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করেন। এই কিংবদন্তিটি জন্মাষ্টমীর উৎসবকে এক গভীর তাৎপর্য প্রদান করে।