ব্রাউজারে ইনকগনিটো মোড ব্যবহারে কি আসলেই গোপন থাকা সম্ভব? কি বলছে বিশেষজ্ঞরা?

আজকের ডিজিটাল যুগে ওয়েব ব্রাউজার আমাদের সম্পর্কে এত তথ্য জানে, যা অনেক সময় আমাদের বন্ধুদের থেকেও বেশি। আপনি অনলাইনে প্যারিস ভ্রমণ নিয়ে অনুসন্ধান করলেই আপনার ফেসবুক ফিড এবং অন্যান্য ওয়েবসাইটে ফ্রান্সের হোটেল বা ট্যুর প্যাকেজের বিজ্ঞাপন ভেসে ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকে ইনকগনিটো বা প্রাইভেট মোড ব্যবহার করার কথা ভাবেন। কিন্তু এই মোড কি সত্যিই আপনাকে অনলাইন জগতের নজরদারি থেকে রক্ষা করতে পারে?

প্রাইভেট মোডের সীমাবদ্ধতা

 

প্রযুক্তি বিষয়ক সাইট ‘হাউ স্টাফ ওয়ার্কস’-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইনকগনিটো মোডের কার্যকারিতা নিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। ইলেকট্রনিক ফ্রন্টিয়ার ফাউন্ডেশনের সিনিয়র স্টাফ টেকনোলজিস্ট সেথ শোয়েনের মতে, প্রাইভেট ব্রাউজিং মোড শুধুমাত্র একটি ডিভাইসের তথ্য অন্য ব্যবহারকারীর থেকে লুকিয়ে রাখতে কার্যকর। কিন্তু এটি:

  • ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারীকে আপনার অনলাইন কার্যকলাপ দেখা থেকে আটকাতে পারে না।
  • আপনি যেসব ওয়েবসাইট ভিজিট করছেন, তাদের কাছে আপনার অবস্থান গোপন থাকে না
  • গুগল অ্যাকাউন্টে লগইন থাকা অবস্থায় ইনকগনিটো মোডে সার্চ করলেও গুগল সেই তথ্য সংরক্ষণ করে।
  • ম্যালওয়্যার বা ভাইরাস থেকে কোনো সুরক্ষা দেয় না।

২০১৮ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, জরিপে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ মানুষই ইনকগনিটো মোডের ক্ষমতা সম্পর্কে ভুল ধারণা পোষণ করেন।

ইনকগনিটো মোডের আসল সুবিধা

 

যদিও ইনকগনিটো মোড সম্পূর্ণ গোপনীয়তা দেয় না, এর কিছু নির্দিষ্ট সুবিধা আছে:

  • সার্চ হিস্ট্রি সংরক্ষণ হয় না, তাই একই ডিভাইস ব্যবহার করা অন্য কেউ আপনার ব্রাউজিং ইতিহাস দেখতে পারে না।
  • কিছু ওয়েবসাইটে সদস্যদের জন্য নির্দিষ্ট কনটেন্ট পড়ার ক্ষেত্রে এটি সহায়ক হতে পারে, কারণ এটি পুরোনো ডেটা মনে রাখে না।
  • এটি বিজ্ঞাপন অ্যালগরিদমের প্রভাব কিছুটা কমিয়ে দেয় এবং বিরক্তিকর ট্র্যাকিং থেকে কিছুটা স্বস্তি দেয়।
  • দ্রুত কোনো বন্ধুর ফেসবুক বা অন্য কোনো অ্যাকাউন্ট লগইন করার জন্য এটি একটি সুবিধাজনক উপায়, কারণ এতে আপনার চলমান সেশন থেকে লগআউট করার প্রয়োজন হয় না।

অনলাইনে আরও গোপনীয় থাকার উপায়

 

সত্যিকার অর্থে অনলাইনে নিজেদের গোপনীয়তা বাড়াতে চাইলে শুধু ইনকগনিটো মোড যথেষ্ট নয়। সেথ শোয়েনের মতে, সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (VPN) এবং টর (Tor) ব্যবহার করা। এই প্রযুক্তিগুলো আপনার অনলাইন ডেটাকে মধ্যবর্তী সার্ভারের মাধ্যমে পাঠায়, যা আপনার ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী এবং ওয়েবসাইটগুলোকে আপনার আসল পরিচয় জানা থেকে অনেকটাই রক্ষা করে।

তবে মনে রাখতে হবে, ভিপিএন বা টরও কোনো জাদুকরী সমাধান নয়। এগুলো ব্যবহার করার আগেও এর কার্যকারিতা এবং সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নেওয়া প্রয়োজন। সামান্য কিছু গবেষণা ও সঠিক টুল ব্যবহার করে আপনি আপনার অনলাইন গোপনীয়তা অনেক সুরক্ষিত রাখতে পারেন।