সীমান্তে উত্তেজনার মাঝে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা, নৌসেনাকে সুযোগের আশ্বাস

সম্প্রতি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালীন ভারতের তিন সামরিক বাহিনীর প্রস্তুতি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কিছু গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য সামনে এসেছে। এই অপারেশনের সময় ভারতীয় সেনা এবং বায়ুসেনা সরাসরি সম্মুখসমরে থাকলেও নৌসেনাকে শেষ মুহূর্তে পিছু হটতে হয়। কারণ পাকিস্তান চাপের মুখে ভারতের কাছে সংঘর্ষবিরতির প্রস্তাব দেয় এবং ভারত তাতে রাজি হয়ে যায়।
প্রধানমন্ত্রীর বার্তা:
১০ মে সকালে নৌসেনার প্রধান অ্যাডমিরাল দীনেশ ত্রিপাঠীকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি মন্তব্য এখন আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী সেনা ও বায়ুসেনা প্রধানকে অভিনন্দন জানানোর পর নৌসেনা প্রধানের দিকে তাকিয়ে বলেন, “আপকে মুহ সে নিবালা ছিন লিয়া, আপকো মৌকা মিলেগা” (আপনার মুখের গ্রাস কেড়ে নিলাম, আপনি আবারও সুযোগ পাবেন)। এই মন্তব্যটি এমন এক সময়ে করা হয়, যখন করাচি বন্দরে ব্রহ্মোস মিসাইল হামলা থেকে নৌসেনাকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী একদিকে যেমন নৌসেনার প্রস্তুতির প্রশংসা করেন, তেমনি ভবিষ্যতের জন্য তাদের উৎসাহিতও করেন।
অপারেশনের সাফল্য ও ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’:
রবিবার বেঙ্গালুরুতে প্রধানমন্ত্রী মোদী ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি জানান, ভারতের সশস্ত্র বাহিনী পাকিস্তানকে হাঁটু গেঁড়ে বসতে বাধ্য করেছিল। তিনি এই সাফল্যের পেছনে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির অবদানের কথা তুলে ধরেন। তিনি সীমান্তের ওপারে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ভারতীয় বাহিনীর সফল হামলার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
বায়ুসেনার সাফল্য:
এর আগের দিন ভারতীয় বায়ুসেনার প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল সিং জানান যে, ‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালীন ভারতের কাছে পাকিস্তানের কমপক্ষে পাঁচটি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করার নিশ্চিত খবর রয়েছে। এছাড়াও আরও একটি সামরিক বিমান ধ্বংস করা হয়েছিল বলেও তিনি জানান।
এই ঘটনাগুলো থেকে স্পষ্ট হয় যে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় ভারতের সামরিক প্রস্তুতি ছিল চূড়ান্ত পর্যায়ে। যদিও শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষবিরতি হওয়ায় নৌসেনাকে সরাসরি আক্রমণে যেতে হয়নি, কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা ভবিষ্যতের জন্য তাদের প্রস্তুতির গুরুত্ব তুলে ধরেছে।