নবান্ন অভিযান, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, ক্ষোভ উগড়ে দিলেন নির্যাতিতার বাবা

নবান্ন অভিযানের সময় পুলিশের আক্রমণে আহত এক মহিলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবারের এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কলকাতা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং নির্যাতিতার বাবা পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

পুলিশ কমিশনারের প্রতিক্রিয়া:
শুক্রবার নবান্ন অভিযানের সময় আহত পুলিশকর্মীদের দেখতে হাসপাতালে যান কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা। সেখানেই তিনি আহত মহিলার প্রসঙ্গে বলেন, “তাঁর যে চোট লেগেছে, সেটা মোটেও কাম্য নয়। দুঃখজনক।” তিনি জানান যে ঘটনার সিসিটিভি, ভিডিও, বডি ক্যামেরা এবং ড্রোনের ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নির্যাতিতার বাবার পাল্টা অভিযোগ:
পুলিশ কমিশনারের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে নির্যাতিতার বাবা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আজ আমি সিপিকে (পুলিশ কমিশনার) একটা চড় মেরে বললাম সরি, তাহলে কি হয়ে যাবে? আমিও তাহলে এখনই সেই কাজ করতে যাচ্ছি।” তিনি কলকাতা পুলিশকে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলের ‘দলদাস’ বলেও আক্রমণ করেন। একইসঙ্গে তিনি এই ঘটনার ফল রাজ্য সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভোগ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।

মেডিক্যাল রিপোর্ট নিয়ে বিতর্ক:
নির্যাতিতার বাবা মেডিকেল রিপোর্ট নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, প্রথম রিপোর্টে পুলিশের মারের কথা উল্লেখ থাকলেও, নতুন রিপোর্টে তা বাদ দেওয়া হয়েছে। এই কারণে তিনি নতুন রিপোর্ট গ্রহণ করেননি।

বিজেপি নেতার নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন:
এই ঘটনা প্রসঙ্গে আরজি কর আন্দোলনে যুক্ত থাকা তুলিকা অধিকারী পুলিশের পাশাপাশি বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, “এই মিছিলে শক্তিশালী বিরোধী দলনেতা ছিলেন, তা সত্ত্বেও আগলে রাখতে পারলেন না কেন?” এই মন্তব্যে বোঝা যায় যে এই ঘটনা কেবল পুলিশ বনাম সাধারণ মানুষের বিতর্ক নয়, বরং রাজনৈতিক মহলেও এর প্রভাব পড়েছে।

বর্তমানে এই ঘটনা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল চলছে। পুলিশের তদন্ত এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলের মন্তব্য এই ইস্যুকে আরও জটিল করে তুলেছে।