OMG! ডুয়ার্সে ৩ নদীতে হড়পা বান, জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেন ২০,০০০ মানুষ

শনিবার সারাদিন ধরে প্রবল হড়পা বানের কবলে পড়ে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে রইল বীরপাড়া থানা এলাকার ভুটান সীমান্ত লাগোয়া জয়বীরপাড়া, ঢেকলাপাড়া, বান্দাপানি চা বাগান এবং কালাপানি বস্তির প্রায় ২০ হাজার মানুষ। এই এলাকাগুলির মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া মরা নদীতে হঠাৎ করেই জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় এবং তীব্র স্রোত বইতে থাকায় জরুরি পরিষেবা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ থমকে যায়। এই বিশাল সংখ্যক মানুষের জন্য কোনো বিকল্প যাতায়াতের ব্যবস্থা না থাকায় তারা দিনভর অবরুদ্ধ হয়ে থাকতে বাধ্য হন।
জানা গিয়েছে, এদিন সকালে ডিমডিমা, ধুমচিখোলা এবং রেতি নদীতে আকস্মিক হড়পা বান আসে। এই নদীগুলির ওপর কোনো স্থায়ী সেতু না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। নাংডালা এবং জয়বীরপাড়া চা বাগানের মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীটি তিনটি চা বাগানের হাজার হাজার মানুষের বীরপাড়ায় যাতায়াতের একমাত্র পথ। প্রবল জলস্রোতের কারণে এই এলাকার মানুষজন কার্যত একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপের বাসিন্দায় পরিণত হন।
বান্দাপানি গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরোধী দলনেতা টেম্পু ওরাওঁ একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বীরপাড়ায় যেতে গিয়ে নদী পার হতে না পেরে ফিরে আসেন। একইভাবে, বান্দাপানি চা বাগানের মাঝ বরাবর প্রবাহিত ঘুমচিখোলা নদীর ওপর গত বছর একটি কজওয়ে তৈরি করা হয়েছিল, যা হড়পা বানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই বছরও হড়পা বানের কবলে পড়ে কজওয়েটি ফের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে স্থানীয়রা কাজে যেতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন।
ভুটান সীমান্ত ঘেঁষা কালাপানি বস্তির বাসিন্দাদেরও একই দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। পশ্চিম দিকে অবস্থিত রেতি নদীতেও কোনো সেতু না থাকায় এবং প্রবল স্রোত থাকায় তারা বানারহাটের দিকে যেতে পারেননি। রেতি ফরেস্টের ভেতর দিয়ে জয়বীরপাড়া পর্যন্ত পৌঁছালেও ডিমডিমা নদী পার হতে না পেরে তাদেরও বাড়িতে ফিরে আসতে হয়।
এই নদীগুলির ওপর সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। সাংসদ জন বারলা ডিমডিমা নদীতে সেতু তৈরির প্রতিশ্রুতি দিলেও তা এখনও পূরণ হয়নি। তবে মাদারিহাটের বিধায়ক জয়প্রকাশ টোপ্পো জানিয়েছেন, পূর্ত দফতর ডিমডিমা নদীতে সেতু নির্মাণের জন্য সমীক্ষা চালিয়েছে এবং দ্রুত কাজ শুরু হবে। কিন্তু যতদিন না সেতু তৈরি হচ্ছে, ততদিন এলাকার হাজার হাজার মানুষের জীবন এইভাবেই প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে আটকে থাকবে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন।