উত্তর প্রদেশে ফের নৃশংস হত্যাকাণ্ড, বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক নাকি ঋণের টাকা?

আবারও এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডে শিরোনামে উঠে এল উত্তর প্রদেশ। রাজ্যের সম্ভাল জেলায় এক দম্পতি ৪৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে নির্মমভাবে খুন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত দম্পতিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, নিহত ব্যক্তির নাম অনিশ। শনিবার রাতে অভিযুক্ত রইস আহমেদ ও তার স্ত্রী সিতারা অনিশকে তাদের বাড়িতে ডেকে পাঠায়। সেখানে তাঁকে প্লাস ও স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে মারধর করা হয় এবং প্লাস দিয়ে তাঁর দাঁত উপড়ে ফেলা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় অনিশ কোনোভাবে ওই বাড়ি থেকে পালিয়ে নিজের বাড়িতে চলে আসেন। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
এই ঘটনার কারণ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত উঠে আসছে। নিহত অনিশের বাবা মুস্তাকিমের দাবি, তাঁর ছেলে ৭ লক্ষ টাকা ফেরত চাওয়ায় তাকে খুন করা হয়েছে। অনিশের বিয়ের ঠিক হওয়ায় তিনি প্রতিবেশী রইসের কাছে এক বছর আগে ধার দেওয়া ওই টাকা ফেরত চাইতে গিয়েছিলেন। মুস্তাকিম বলেন, “তারা আমার ছেলেকে এমন নৃশংসভাবে হত্যা করেছে যে আমি তা বর্ণনাও করতে পারছি না।”
অন্যদিকে, পুলিশ এই ঘটনার পেছনে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে বলে সন্দেহ করছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজেশ কুমার শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, “তদন্তে জানা গেছে যে নিহত অনিশের সঙ্গে অভিযুক্ত সিতারার একটি অবৈধ সম্পর্ক ছিল। রইস এবং সিতারা দুজনেই অনিশকে হত্যার পরিকল্পনা করে।”
পুলিশ একটি খুনের মামলা দায়ের করেছে এবং তদন্ত চলছে। অভিযুক্ত দম্পতিকে জেরা করা হচ্ছে। ঋণের টাকা নিয়ে বিবাদ নাকি বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের আসল কারণ কী, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই ধরনের ঘটনা ফের একবার উত্তর প্রদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।