লক্ষ লক্ষ নাম বাদ, শুরু রাজনৈতিক বিতর্ক! খসড়া ভোটার তালিকা নিয়ে কী ভাবনা? শীর্ষ আদালতে ‘আইন’ আলোচনায় কমিশন

বিহারে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সমীক্ষার পর প্রকাশিত খসড়া তালিকা থেকে ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনের কাছে জবাব চেয়েছিল, যেখানে কমিশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে বাদ পড়া ভোটারদের নাম তারা প্রকাশ করবে না।
নির্বাচন কমিশনের অবস্থান
সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হলফনামায় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আইন অনুযায়ী খসড়া তালিকায় যাদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি, তাদের তথ্য প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক নয়। কমিশন আরও বলেছে যে, বাদ পড়া ভোটারদের নাম ‘অধিকারের বিষয়’ হিসেবে দাবি করা যায় না। তাদের মতে, আবেদনকারীরা আদালতকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন এবং তাদের জরিমানা করা উচিত। কমিশন স্পষ্ট করেছে যে খসড়া তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া মানেই তা স্থায়ী নয়, এবং এই ব্যক্তিরা দাবি ও আপত্তি জানানোর সময় আবেদন করে নাম অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ পাবেন।
বিরোধী শিবিরের ক্ষোভ
নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তে বিরোধী শিবির ক্ষুব্ধ। ইন্ডিয়া জোটের সাংসদরা আগামী ১১ই আগস্ট, সোমবার সংসদ ভবন থেকে কমিশনের দপ্তরে অভিযান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ওই দিন রাতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনে নৈশভোজের আগে বিরোধী নেতারা এই বিষয়ে রণকৌশল ঠিক করবেন। তারা প্রশ্ন তুলেছেন যে, বাদ পড়া ভোটাররা কি মৃত নাকি অন্য কোথাও চলে গেছেন, তা কমিশন কেন স্পষ্ট করছে না।
সুপ্রিম কোর্টে মামলা
অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মস (এডিআর)-এর হয়ে আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করে জানিয়েছেন, কমিশন বাদ পড়া ভোটারদের পরিচয়, মৃত্যুর কারণ বা অন্য স্থানে চলে যাওয়ার তথ্য প্রকাশ করেনি। তিনি আরও বলেন, এই বিষয়ে বুথ লেভেল অফিসারদের সুপারিশের কোনো তথ্যও নেই। গত শুনানিতে আদালত কমিশনকে শনিবারের মধ্যে তাদের বক্তব্য জানানোর নির্দেশ দিয়েছিল। আগামী ১২ই আগস্ট এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে, যা এখন সবার নজরে রয়েছে।