দিল্লিতে দেওয়াল চাপা পড়ে মুর্শিদাবাদের একই পরিবারের চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যু

সামান্য বেশি রোজগারের আশায় পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু দিল্লিতে অতিবৃষ্টির জেরে একটি বাড়ির দেওয়াল চাপা পড়ে একই পরিবারের চারজন সহ মোট সাতজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় মুর্শিদাবাদের নওদা থানার গঙ্গাধারী জোড়তলা গ্রামে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মৃতদের নাম রবিউল শেখ, তার স্ত্রী রুবিনা বিবি, এবং তাদের দুই শিশুকন্যা হাসিনা খাতুন ও রুপসানা খাতুন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রবিউল প্রায় এক মাস আগে তার স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে দিল্লিতে পাড়ি দিয়েছিলেন। শনিবার সকালে ভারী বৃষ্টির কারণে তারা যে বাড়িতে ভাড়া থাকতেন, তার মাটির দেওয়াল ধসে পড়ে। এতে একই পরিবারের চারজনসহ মোট সাতজনের মৃত্যু হয়।

পরিযায়ী শ্রমিকের এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে মুর্শিদাবাদের ওই গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একই পরিবারের চার সদস্যের আকস্মিক মৃত্যুতে গোটা গ্রাম স্তম্ভিত।

এদিকে, এই ঘটনার পাশাপাশি পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে আরও একটি উদ্বেগজনক খবর সামনে এসেছে। উত্তরবঙ্গের অনেক পরিযায়ী শ্রমিক পরিবার ভিন রাজ্যে কাজে যেতে ভয় পাচ্ছেন। তাদের অভিযোগ, সেখানে বাংলা ভাষায় কথা বললে তাদের হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে। সম্প্রতি, ফালাকাটার জটেশ্বরের হেদায়েত নগরের বাসিন্দা অনিল বর্মণ একটি ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন যে, ভিন রাজ্যে বাংলা ভাষায় কথা বলা নিয়ে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলাল সেই ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন, যা আরও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

দিল্লিতে এই মর্মান্তিক ঘটনা এবং ভিন রাজ্যে বাংলাভাষী শ্রমিকদের নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলি পরিযায়ী শ্রমিকদের জীবন এবং তাদের সুরক্ষার বিষয়টিকে নতুন করে সামনে এনেছে।