বিজ্ঞানীরা নতুন ধরনের জেনেটিক রোগ শনাক্ত করলেন, জেনেনিন কী সেই রোগ?

বিজ্ঞানীরা মানবদেহের জেনেটিক বা বংশগতির কারণে সৃষ্ট একটি নতুন ধরনের রোগ শনাক্ত করেছেন। এই রোগটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘লিন কাইনেজ-অ্যাসোসিয়েটেড ভাস্কুলোপ্যাথি অ্যান্ড লিভার ফাইব্রোসিস’ (LAVLI)। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই আবিষ্কারকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই নতুন রোগটি মানবদেহের ‘এলওয়াইএন’ (LYN) জিনের পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত, যা শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণ করে।

রোগের লক্ষণ ও কারণ
ল্যাভলি রোগটি প্রথমবার একটি শিশুর দেহে শনাক্ত হয়, যার ‘এলওয়াইএন’ জিনে অস্বাভাবিকতা ছিল। পরে একই জিনে ভিন্ন ধরনের সমস্যা আরও দুই শিশুর মধ্যে পাওয়া যায়। এই তিন শিশুরই ছোটবেলা থেকে যকৃত এবং রক্তনালীর গুরুতর সমস্যা ছিল। তাদের শরীরে শ্বেত রক্তকণিকার অংশ নিউট্রোফিল ত্বকের ক্ষুদ্র রক্তনালীগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, যা ‘নিউট্রোফিলিক কিউটেনিয়াস স্মল ভেসেল ভাস্কুলাইটিস’ নামে পরিচিত। এছাড়াও, এই শিশুদের যকৃতের টিস্যুতে দাগ বা স্কার টিস্যু জমে যকৃতের স্বাভাবিক কার্যকারিতা ব্যাহত হয়, যাকে ‘লিভার ফাইব্রোসিস’ বলা হয়।

গবেষকদের মতে, এই শিশুদের ‘এলওয়াইএন’ জিন থেকে তৈরি হওয়া ‘লিন কাইনেজ’ নামক প্রোটিনটি অস্বাভাবিকভাবে অতিমাত্রায় সক্রিয় হয়ে উঠেছিল। এর ফলে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা অতিরিক্ত কোষ তৈরি করে এবং প্রদাহের সংকেত আরও তীব্র হয়ে ওঠে। এতে যকৃতের কোষগুলো অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে স্কার টিস্যু তৈরি করতে থাকে।

চিকিৎসার নতুন দিগন্ত
এই নতুন রোগের আবিষ্কারটি কীভাবে কিছু রোগের উৎপত্তি হয় তা বুঝতে সাহায্য করবে। শুধুমাত্র ল্যাভলি নয়, ভাসকুলাইটিস বা লিভার ফাইব্রোসিসের মতো অন্যান্য রোগের চিকিৎসার পথও এই আবিষ্কারের মাধ্যমে উন্মোচিত হতে পারে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভবিষ্যতে এমন ওষুধ তৈরি করা সম্ভব হবে যা সরাসরি ‘এলওয়াইএন’ জিনকে লক্ষ্য করে কাজ করবে এবং এই ধরনের রোগ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে। এই গবেষণাটি বিরল রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে জেনেটিক পরীক্ষার গুরুত্বকে তুলে ধরেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস’-এর ড. অ্যাড্রিয়ানা এ. ডি জেসুস এবং তার দল এই গবেষণাটি পরিচালনা করেন, যার ফলাফল ‘নেচার কমিউনিকেশনস’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এটি বিরল রোগে আক্রান্ত মানুষ এবং তাদের পরিবারের জন্য নতুন আশার আলো নিয়ে এসেছে।