“ভারত এমন অনেক পরিস্থিতি দেখেছে”-মার্কিন শুল্ক চ্যালেঞ্জ নিয়ে যা বললেন পীযূষ গোয়েল

*বিটি ইন্ডিয়া@১০০* শীর্ষ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন। তাঁর কথায়, “ভারত বারবার প্রমাণ করেছে—দুর্যোগকে সুযোগে পরিণত করাই আমাদের শক্তি। আজ বিশ্ব ভারতের দিকে তাকিয়ে আছে, কাজের জন্য হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে।”
মন্ত্রী জানান, বর্তমানে বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ভারতের অবদান ১৬ শতাংশ। শেয়ার বাজারের উত্থান, মুদ্রার স্থিতিশীলতা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি—সব মিলিয়ে ভারতের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। “আমাদের ১.৪ বিলিয়ন মানুষের প্রতিভা নিয়ে আজ গোটা বিশ্ব কাজ করতে চায়,” বলেন তিনি।
**দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতি হিসেবে স্বীকৃতি**
পীযূষ গোয়েল মনে করেন, এটাই ভারতের সময়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে দেশ প্রতিটি প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দৃঢ় থেকেছে। কৃষক থেকে উদ্যোক্তা—সবাইকে নিয়ে ভারত নতুন বিশ্ব ব্যবস্থায় এগিয়ে যাবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আজ ভারত বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতি, এবং বিশ্ব সেই শক্তিকে স্বীকার করেছে।”
**ভারত-মার্কিন বাণিজ্য আলোচনায় কৃষকদের স্বার্থ অগ্রগণ্য**
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি প্রসঙ্গে মন্ত্রী স্পষ্ট জানান, “তারা তাদের দুগ্ধজাত পণ্যের জন্য আমাদের বাজার খুলে দিতে চাইছে, কিন্তু আমরা কৃষকদের স্বার্থে এই অনুমতি দিইনি এবং ভবিষ্যতেও দেব না।”
**ইতিহাস থেকে শিক্ষা – Y2K থেকে আইটি বিপ্লব**
শুল্ক নীতি ও পরিবর্তনের প্রসঙ্গে গোয়েল উল্লেখ করেন, ভারতের হাজার বছরের ইতিহাসে নানা সংকট এসেছে, কিন্তু সেগুলিকে দেশ সুযোগে পরিণত করেছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি ১৯৯৯ সালের *Y2K* সংকটের কথা বলেন, যখন অটল বিহারী বাজপেয়ীর সরকার আইটি খাতে মুক্ত হস্ত দেয়। এর ফলেই আজ ভারতের আইটি শিল্পের মূল্য ৩০০ বিলিয়ন ডলার এবং লক্ষ লক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে।
**করোনাকালে দৃঢ়তার প্রমাণ**
করোনা মহামারীর সময় ভারত কেবল নিজেকে টিকিয়ে রাখেনি, বরং আত্মনির্ভরতার পথ দেখিয়েছে। “আমরা ১০০টিরও বেশি দেশকে বিনামূল্যে টিকা দিয়েছি, যার মধ্যে দরিদ্র দেশও ছিল। দেশে একজনও অনাহারে মারা যায়নি—বরং ৮০ কোটি মানুষকে দ্বিগুণ রেশন সরবরাহ করেছি,” বলেন গোয়েল। তাঁর মতে, কৃষকের শক্তি ও সরকারের পরিকল্পনার কারণেই মহামারী থেকে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছে ভারত।
সম্মেলনের শেষে মন্ত্রীর বার্তা ছিল দৃঢ়—*“পরীক্ষা যত কঠিনই হোক, ভারতের জয় অনিবার্য।”*