হাওড়ার বেগড়ীতে জলযন্ত্রণায় অতিষ্ঠ মানুষ, ২৫ বছরের দুর্ভোগের পর অবশেষে রাস্তা অবরোধ

দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে জলবন্দী জীবন যাপনের পর অবশেষে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন হাওড়ার বেগড়ী গ্রাম পঞ্চায়েতের রাজবংশী পাড়ার বাসিন্দারা। সামান্য বৃষ্টিতেই যে এলাকায় জল জমে, এবার সেই জল প্রায় ২৫ দিন ধরে জমে থাকায় জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে শুক্রবার কয়েক হাজার মানুষ রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান।
বেগড়ী-বন্যাপাড়া জাতীয় সড়ক সংযোগকারী রাস্তা অবরোধের ফলে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত যান চলাচল স্তব্ধ হয়ে যায়। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া স্থানীয়রা জানান, এই ২৫ দিন ধরে তাদের বাড়িতে জল থইথই করছে, যা বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠেছে। রান্না করা বা খাবার খাওয়ার মতো পরিস্থিতিও নেই। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে নিজেদের ঘর ছেড়ে অন্য জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই জলবন্দী অবস্থায় স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো শৌচকর্মের ব্যবস্থা। নিম্নবিত্ত পরিবারের এই এলাকায় বেশিরভাগ শৌচালয়ই জমা জলে ডুবে রয়েছে, ফলে সেগুলি ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
প্রায় ৪০০-৫০০ পরিবার এই জলযন্ত্রণার শিকার। স্থানীয়রা জানান, বার বার পঞ্চায়েতকে জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। তাই বাধ্য হয়েই তারা এই চরম পদক্ষেপ নিয়েছেন। বিক্ষোভে কয়েকশো পুরুষ ও মহিলা অংশ নিয়ে অবিলম্বে জলমুক্তির দাবি জানান।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ডোমজুড় থানার পুলিশ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। পুলিশ এবং পঞ্চায়েত প্রতিনিধিদের আশ্বাসে এবং দ্রুত জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতির পর অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে জগৎবল্লভপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সুবীর চট্টোপাধ্যায় এবং বেগড়ী পঞ্চায়েতের প্রধান দেবাশীষ ঘোষ জানান, “মানুষের সমস্যার কথা আমরা জানি। এলাকায় পাম্প বসিয়ে জল বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে শুধু পাম্প বসানো নয়, এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য আমরা পরিকল্পনা করছি।”
স্থানীয় বাসিন্দারা এখন আশা করছেন যে, ২৫ বছরের এই দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার এবার একটা স্থায়ী সমাধান হবে। তবে জনপ্রতিনিধিদের এই প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়িত হয়, সেদিকেই এখন সবার নজর।