২০২৬-এর বিধানসভা ভোটে তৃণমূলকে হারিয়ে তাদের অস্তিত্ব মুছে দেব, হুঙ্কার শুভেন্দু অধিকারীর

আগামী ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। যাদবপুরের একটি জনসভা থেকে তিনি সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, ‘২০২৬ সালের ভোটে তৃণমূলকে হারিয়ে তাদের নাম পশ্চিমবঙ্গ থেকে মুছে ফেলব।’ একইসঙ্গে তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন।
যাদবপুরের এই সভা থেকে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘তৃণমূলের সরকার রাজ্যে আর বেশিদিন টিকবে না। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি সরকার গঠন করবে এবং তৃণমূলের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটবে।’ তার মতে, রাজ্যে এখন যে শাসন চলছে তা সাধারণ মানুষের পক্ষে ক্ষতিকর এবং এটি অবিলম্বে বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তোপ দেগে শুভেন্দু বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী শুধু পরিবারতন্ত্রের রাজনীতি করছেন এবং রাজ্যকে ঋণের জালে আটকে ফেলছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘রাজ্যের মানুষ এখন পরিবর্তন চাইছে এবং বিজেপিই সেই পরিবর্তন আনতে পারে।’
অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে তিনি বলেন, ‘ভাইপো ও তার সিন্ডিকেট রাজ্যের বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করছে। বাংলার যুবসমাজ তাদের ভবিষৎ নিয়ে চিন্তিত। আগামী দিনে মানুষ এর জবাব দেবে।’ তিনি অভিষেককে ‘তোলাবাজ ভাইপো’ বলেও কটাক্ষ করেন।
শুভেন্দু অধিকারী তার বক্তৃতায় যাদবপুরের জনগণের কাছে অনুরোধ করেন, তারা যেন আগামী নির্বাচনে বিজেপি-কে সমর্থন করেন। তিনি বলেন, ‘যাদবপুরের মানুষ বরাবরই সচেতন এবং তারা জানেন কাকে সমর্থন করলে রাজ্যের উন্নয়ন সম্ভব।’ তিনি রাজ্যের শাসক দলের বিভিন্ন দুর্নীতির বিষয় তুলে ধরে বলেন, ‘নারদা, সারদা, কয়লা পাচার, গরু পাচার— সবকিছুর পেছনেই তৃণমূলের হাত রয়েছে। আমরা ক্ষমতায় এলে সমস্ত দুর্নীতির তদন্ত করব।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর এই ধরনের আক্রমণাত্মক বক্তব্য আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলবে। বিশেষ করে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে সরাসরি আক্রমণের ফলে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়বে। এখন দেখার, তৃণমূল শিবির থেকে এই মন্তব্যের কী প্রতিক্রিয়া আসে।