দুর্গাপূজার আগে রাজ্য রাজনীতির উত্তাপ! নবান্ন অভিযানের আগে কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে পুলিশ

আসন্ন দুর্গাপূজার উৎসবের আবহের আগেই রাজ্য রাজনীতিতে পারদ চড়ছে। আগামীকাল, বিজেপির নেতৃত্বে নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়েছে অভয়া পরিবার। এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে কোনো রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে রাজ্য প্রশাসন। নবান্ন চত্বর এবং তার আশপাশের এলাকায় যাতে কোনো বিক্ষোভ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, তার জন্য কড়া নজর রাখছে পুলিশ।

এই পরিস্থিতিতে নবান্ন অভিযানের প্রস্তুতি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা, কলকাতা পুলিশের এডিজি দক্ষিণ বঙ্গ সুপ্রতীম সরকার এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার। বৈঠকে এই তিন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যে কোনো রাজনৈতিক বা অরাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিবাদের অধিকার আছে, কিন্তু তা হতে হবে শান্তিপূর্ণ এবং নবান্ন থেকে অনেক দূরে।

কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, নবান্ন চত্বরে কোনো রকম জমায়েত বা উত্তেজনামূলক কার্যকলাপ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই নির্দেশ মেনে পুলিশ প্রশাসনও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নবান্নের দিকে কোনো মিছিল বা প্রতিবাদ এগিয়ে এলে তা প্রতিহত করা হবে। যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হাওড়ার বিক্ষোভকারীদের জন্য সাঁতরাগাছি বাস স্ট্যান্ড এবং কলকাতার বিক্ষোভকারীদের জন্য রানী রাসমণি অ্যাভিনিউ নির্দিষ্ট করা হয়েছে। প্রতিবাদ কর্মসূচি সফল করতে হলে পুলিশকে আগে থেকে জানাতে হবে কতজন মানুষ এবং কতগুলি গাড়ি নিয়ে তারা আসবেন, যাতে পুলিশ নজরদারি বাড়াতে পারে। হাওড়া ও কলকাতা ছাড়া রাজ্যের অন্য কোনো স্থানেও যদি প্রতিবাদ কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়, তবে তার জন্য আগে থেকে পুলিশকে অবহিত করা বাধ্যতামূলক।

প্রসঙ্গত, আগামীকালকের নবান্ন অভিযানে অভয়া পরিবার নেতৃত্ব দেবে বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, পুলিশের এই কড়াকড়ি ব্যবস্থার পেছনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ রয়েছে। তাঁদের দাবি, অভয়া পরিবার বিজেপির হাতে প্রতিবাদের রাশ তুলে দেওয়ায় প্রশাসন এই পদক্ষেপ নিচ্ছে।

তবে, একটি বিষয় এই অভিযানের গুরুত্ব কিছুটা কমিয়ে দিতে পারে। অভয়া কাণ্ডের পর জুনিয়র ডাক্তাররা যে আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন, তাঁরা এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন না। যদি তাঁরা এই অভিযানে যোগ দিতেন, তবে হয়তো পরিস্থিতির কিছুটা বদল হতে পারতো। তবে, এখন দেখার বিষয়, আগামীকালের এই নবান্ন অভিযান কোন দিকে মোড় নেয় এবং পুলিশের প্রতিরোধ ব্যবস্থা কিভাবে কাজ করে।