“শৃঙ্খলাই শেষ কথা…”-প্রথম দিনই সংসদীয় টিমকে যে বার্তা দিলেন অভিষেক

লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই দলের সাংসদদের শৃঙ্খলা এবং দায়বদ্ধতার ওপর জোর দিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে আয়োজিত এক বৈঠকে তিনি দলীয় সাংসদদের জন্য বেশ কিছু কঠোর নির্দেশ জারি করেছেন। মূল বার্তাটি হলো, সংসদ অধিবেশন চলাকালীন রাজধানীতে থাকলে প্রত্যেক সাংসদকে সারাদিন অধিবেশনে উপস্থিত থাকতে হবে এবং হাজিরা দিয়েই বাড়ি চলে যাওয়ার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে।
লোকসভায় দলনেতার পদে আসীন হওয়ার পর বৃহস্পতিবারই প্রথম দিল্লিতে আসেন অভিষেক। বিমানবন্দরে নেমে সরাসরি সংসদ ভবনে পৌঁছান তিনি। যদিও সেই সময় বিরোধী দলের বিক্ষোভের কারণে লোকসভা ও রাজ্যসভার অধিবেশন মুলতুবি হয়ে গিয়েছিল। এরপর পুরোনো সংসদ ভবনে দলের পার্টি অফিসে লোকসভার সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তিনি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে অভিষেক স্পষ্ট করে দেন যে অধিবেশন চলাকালীন সাংসদদের ‘ফুল টাইম অ্যাটেন্ডেন্স’ বাধ্যতামূলক। তিনি বলেন, অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়ে আলোচনার সময় দলের অনেক সাংসদকে অনুপস্থিত দেখা যায়। দিল্লিতে থাকা সত্ত্বেও অধিবেশন ফাঁকি দেওয়ার এই প্রবণতাকে কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে তিনি প্রথম দিনেই কঠোর বার্তা দেন। বৈঠকে সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অনুপস্থিত ছিলেন। এ প্রসঙ্গে অভিষেক জানান, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতের কাজে ব্যস্ত থাকায় উপস্থিত হতে পারেননি এবং তার সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলা হবে।
সাংবাদিকদের সামনে কথা বলার বিষয়েও দলীয় সাংসদদের সতর্ক করেছেন অভিষেক। তিনি বলেন, টিভি ক্যামেরা দেখলেই কোনো বিষয় নিয়ে মন্তব্য করা যাবে না। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বিষয় এবং বিদেশনীতির মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে দলের অনুমোদিত প্রতিনিধি ছাড়া অন্য কেউ যেন কোনো বিবৃতি না দেন, সেই নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
অভিষেক আরও স্পষ্ট করে দেন যে তিনি দলের মধ্যে কোনো ধরনের লবিবাজি বা কোন্দলকে প্রশ্রয় দেবেন না। লোকসভার পুরো দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সংসদীয় কার্যক্রমের সঠিক সমন্বয় নিশ্চিত করার জন্য তিনি নিজেও সব সময় দলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন। একই সঙ্গে তিনি নির্দেশ দেন যে, তার অনুপস্থিতিতেও দলের মুখ্য সচেতক কাকলি ঘোষদস্তিদার এবং ডেপুটি লিডার শতাব্দী রায়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে।
অভিষেকের এই কঠোর বার্তা থেকে বোঝা যাচ্ছে, লোকসভায় তৃণমূলকে আরও বেশি সুসংগঠিত এবং কার্যকরী করে তুলতে চান তিনি।