সুবিচারের খোঁজে ফের সিবিআই ডাইরেক্টরের দ্বারস্থ আর জি করের নির্যাতিতার বাবা-মা

আর জি কর মেডিক্যাল কলেজে নিহত তরুণী চিকিৎসক পড়ুয়ার ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সুবিচারের আশায় ফের সিবিআই ডাইরেক্টর প্রবীণ সুদের সঙ্গে দেখা করলেন তাঁর বাবা-মা। বৃহস্পতিবার বিকেলে দিল্লির সিবিআই সদর দফতরে এই সাক্ষাৎ হয়। আধ ঘণ্টার এই বৈঠকে নির্যাতিতার বাবা-মা সিবিআইয়ের তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
সিবিআই সূত্রে জানা গেছে, ডাইরেক্টর প্রবীণ সুদ তাদের কথা ধৈর্য সহকারে শুনেছেন এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। এটি তাদের সঙ্গে সিবিআই ডাইরেক্টরের দ্বিতীয় সাক্ষাৎ। তবে নির্যাতিতার বাবা-মা কেবল সিবিআই ডাইরেক্টর নয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সহ অন্যান্য বরিষ্ঠ নেতাদের সঙ্গেও দেখা করার পরিকল্পনা করছেন।
গত বছর ৯ আগস্ট কলকাতার আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের চেস্ট মেডিসিন বিভাগের সেমিনার হলে ২৬ বছর বয়সী ওই স্নাতকোত্তর চিকিৎসক পড়ুয়াকে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয় এবং চিকিৎসকরা ব্যাপক বিক্ষোভ দেখান। সিবিআইয়ের তদন্তের পর এই ঘটনায় অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে, সিবিআই এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মৃত্যুদণ্ডের আবেদন করেছে, কারণ তাদের মতে এটি একটি “বিরলতম” ঘটনা।
কিন্তু নির্যাতিতার বাবা-মা এই রায়ে সন্তুষ্ট নন। তাঁদের দৃঢ় বিশ্বাস, এই অপরাধের পেছনে শুধু সঞ্জয় রায় একা নয়, আরও অনেকেই জড়িত রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, প্রথম থেকেই ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। নির্যাতিতার মা বলেন, “আমার মেয়ে যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল। এত সুরক্ষিত ভবনের ভিতরে একজন পুরুষের পক্ষে একা এই কাজ করা সম্ভব নয়। এই ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার পেছনে একটা বড় চক্র কাজ করছে।”
নির্যাতিতার বাবা প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ করে বলেন, “সেদিন শ্মশানে তিনটি মৃতদেহ ছিল, তবুও আমাদের মেয়ের মৃতদেহ আগে দাহ করা হয়েছিল। কেন এত তাড়াহুড়ো? প্রমাণ মুছে ফেলার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।”
এদিকে, এই মর্মান্তিক ঘটনার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে কলকাতায় দুটি জনসভার আয়োজন করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা মুখ্যমন্ত্রীর কালীঘাটের বাড়ির দিকে মিছিল করার পরিকল্পনা করেছেন। একটি ফোরাম ‘অভয়া মঞ্চ’ সেদিন রাখি বন্ধন পালন করবে এবং ১৪ আগস্ট ‘রাত দখল’ পদযাত্রা করবে বলে জানা গেছে।