ওটিপি’র অপব্যবহার, ভোটার তালিকা বিতর্কে কাঠগড়ায় নির্বাচন কমিশন

ভোটার তালিকায় অবৈধভাবে নাম অন্তর্ভুক্তির অভিযোগকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের আভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া এবং ওটিপি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে। পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দকুমার এবং ময়না বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার তালিকায় কারচুপির ঘটনায় চারজন নির্বাচনী আধিকারিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিশন। এই ঘটনাটি প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা উভয় ক্ষেত্রেই নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (এইআরও), সুদীপ্ত দাস, তিনটি ভিন্ন পদের জন্য প্রয়োজনীয় ওটিপি ব্যবহার করে তিনটি পৃথক অ্যাকাউন্ট অ্যাক্সেস করেছেন। তিনি অপারেটর, এইআরও এবং ইআরও-র ওটিপি সংগ্রহ করে নিজেই অবৈধ ভোটার অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করেছেন বলে জানা গেছে। এই ধরনের ঘটনা প্রমাণ করে যে, ওটিপি-ভিত্তিক সুরক্ষা ব্যবস্থা সঠিকভাবে পরিচালিত না হলে তা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
নির্বাচনী আধিকারিকদের একটি অংশ মনে করেন, ওটিপি শেয়ার না করলে কোনো ইআরও-র পক্ষেই কাজ করা সম্ভব নয়। তাহলে কি এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়েই এই ধরনের কারচুপি করা হয়েছে? নন্দকুমার বিধানসভায় প্রায় ৫৯ জন অস্তিত্বহীন ভোটারের নাম তালিকায় যোগ করার অভিযোগটি এই প্রশ্নকে আরও জোরদার করেছে।
এই বিষয়ে জেলা প্রশাসনের কর্তারা সম্পূর্ণ নীরব থাকলেও, রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিরোধীরা এই ঘটনাকে প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং দুর্নীতির চূড়ান্ত উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছেন। যদিও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিবাচকভাবে মন্তব্য করে বলেছেন যে সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তবে এই ঘটনা নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ কার্যপদ্ধতি এবং তার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। এই ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।