জয়েন্ট এন্ট্রান্সের ফল প্রকাশে জটিলতা! ১৫ দিনের মধ্যে নতুন মেধা তালিকা তৈরির নির্দেশ হাইকোর্টের

জয়েন্ট এন্ট্রান্সের ফলপ্রকাশ কবে হবে, তা নিয়ে তৈরি হলো নতুন জটিলতা। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৌশিক চন্দ এক স্পষ্ট নির্দেশে জানিয়েছেন যে, রাজ্যকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে নতুন করে মেধা তালিকা তৈরি করতে হবে। আগের ৬৬টি তালিকা অনুযায়ী ৭ শতাংশ ওবিসি সংরক্ষণ (ওবিসি-এ ও ওবিসি-বি) মেনে এই তালিকা তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এর ফলে পূর্বঘোষিত ফলপ্রকাশ আবারও স্থগিত হয়ে গেল।

প্রসঙ্গত, হাইকোর্টের নির্দেশের কারণে পশ্চিমবঙ্গ জয়েন্ট এন্ট্রান্স এক্সামিনেশন বোর্ড (WBJEE) ফলপ্রকাশ করতে পারছিল না। বিচারপতি কৌশিক চন্দ জানান, ওবিসি-এ এবং ওবিসি-বি অনুযায়ী যে মেধা তালিকা তৈরি হয়েছিল, তা মেনে ফলপ্রকাশ করা যাবে না। তিনি ২২শে মে ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ অনুযায়ী, ৬৬টি তালিকা মেনে ওবিসি সংরক্ষণ (৭ শতাংশ) অনুযায়ী নতুন করে মেধা তালিকা তৈরি করে ফলপ্রকাশ করার নির্দেশ দেন।

বৃহস্পতিবার শুনানির শুরুতে বিচারপতি কৌশিক চন্দ বলেন, “শীর্ষ আদালত একটি নির্দেশ দিয়েছে। আদালত জানতে চায় রাজ্য কী করছে? শীর্ষ আদালতের রায়ের প্রভাব কী পড়বে?” এদিন রাজ্যের পক্ষে হাইকোর্টে সওয়াল করেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “আমরা আজই জয়েন্টের ফলপ্রকাশ করব। ২০২৫-এর ভর্তি পরে হোক, তাতে কোনো অসুবিধা নেই।” তিনি এও উল্লেখ করেন যে, এই ক্ষেত্রে শীর্ষ আদালতের নির্দেশ রয়েছে।

বিচারপতি তখন তার কাছে জানতে চান, “সেক্ষেত্রে ওবিসি-এ ও ওবিসি-বি কীভাবে যুক্ত হবে?” উত্তরে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “হ্যাঁ হবে। যাদের সার্টিফিকেট বাতিল হয়েছিল, তারা পোর্টালে আবেদন করবেন এবং ফিনান্সিয়াল স্ট্যাটাস জমা দিতে হবে।”

তখন বিচারপতি প্রশ্ন করেন, “পেন্ডিং অ্যাডমিশনের ক্ষেত্রে কীভাবে এই নোটিফিকেশন কাজে লাগাতে পারেন?” তিনি তখন স্পষ্ট করে বলেন, “দুটি ক্যাটেগরি যুক্ত করলে রেজাল্ট প্রকাশ করতে দেব না। কারণ শীর্ষ আদালত হাইকোর্টের রায় খারিজ করে দেননি। পুরনো ভর্তির ক্ষেত্রে ৭ শতাংশ সংরক্ষণ মানতে হবে।” এই নির্দেশের পর আবারও জয়েন্ট এন্ট্রান্সের ফলপ্রকাশ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলো।