যে ১০টি সিনেমা বিতর্কের ঝড় তুলেছিল ভারতে, দেখেনিন একঝলকে

বলিউড সবসময় আলোচিত ও সমালোচিত সিনেমা উপহার দিয়েছে দর্শকদের। প্রেম, ভালোবাসা, ড্রামা, অ্যাকশনের পাশাপাশি এমন কিছু সিনেমাও আছে যা বেশ আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল তরুণ ও যুব সমাজের মাঝে। বেশ কয়েকটি প্রজন্ম ধরে যুব সমাজের মধ্যে তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে বলিউডের ব্যতিক্রমধর্মী কিছু সিনেমা। মুলত প্রাপ্তবয়স্কদের জন্যই এই সিনেমাগুলো।
তেমনই ১০টি সিনেমা নিয়ে আজকের আলোচনা, যেগুলো মুক্তির পর বিতর্কের ঝড় তুলেছিল ভারতে।
‘মাতৃভূমি- নারী ছাড়া একটি জাতি’ : ২০০৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সমাজ ব্যবস্থার উপরে নির্মিত ট্র্যাজেডিমুলক এই সিনেমাটি দুর্বল হৃদয়ের মানুষের জন্য নয়। এটিকে ‘এ’ রেট দেওয়া হয়েছিল কারণ এটি কাল্পনিক ভবিষ্যতে লিঙ্গ ভারসাম্যের দিকে আঙুল তুলেছিল। গল্পে একটি গ্রামে নারীদের অভাবে একজন নারীকে ৫ ভাইকে বিয়ে করতে বাধ্য করা হয়। এমনই ঘটনার উপরে নির্মিত চলচ্চিত্র এটি যা মুক্তির পর অনেক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল।
আস্থা- বসন্তের কারাগারে : বসু ভট্টাচার্য পরিচালিত রেখা, ওম পুরি এবং নবীন নিসচোল অভিনীত ‘আস্থা’ বেশ আলোচিত একটি সিনেমা। সিনেমাটিতে দেখায় যে একজন বিবাহিত মহিলা কিভাবে একজন পতিতা হয়ে ওঠে যাতে সে একটি বিলাসবহুল জীবনযাপন করার জন্য যথেষ্ট উপার্জন করতে পারে। প্রধান চরিত্রে অভিনয় করা রেখা তাঁর ভূমিকার জন্য কঠোর সমালোচিত হয়েছিল। রেখা এবং নবীন নিসকোলের মধ্যে সাহসী যৌন দৃশ্যের জন্য এই সিনেমাটি বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল তখন।
চাঁদনী বার : টাবু অভিনীত সেরা সিনেমাগুলোর একটি এটি। ২০০১ সালের এই চলচ্চিত্রটি একটি যুবতী মহিলার গল্প বলে যে পরিস্থিতির কারণে বারে নাচতে বাধ্য হয়। কিভাবে সে তাঁর সন্তানদের লালন-পালন করে জীবন সংগ্রামে টিকে থাকে, সেই গল্পে নির্মিত এই সিনেমাটি। সিনেমাটি মুক্তির পর সাহসী অভিনয়ের জন্য বেশ প্রশংসিত হয়েছিল টাবু।
কুলিযুগ : ২০০৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত অ্যাকশন থ্রিলার সিনেমাটি বেশ ঝড় তুলেছিল তখন। কুনাল খেমু, ইমরান হাশমি, স্মাইলি সুরি, দীপাল শ, অমৃতা সিং এবং আশুতোষ রানা প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করেছেন সিনেমাটির। একটি ফুটেজ ফাঁস হওয়ার কারণে স্ত্রীর মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে এক যুবকের যাত্রার গল্পে নির্মিত সিনেমাটি অশ্লীল দৃশ্য বেশ রয়েছে। সিনেমাটির গানগুলো সকলের মুখে মুখে ছিল তখন।
বিএ পাস : ২০১২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমাটি ভারতে মুক্তির পর বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। ‘চাক দে ইন্ডিয়া’ খ্যাত শিল্পা শুক্লার এই সিনেমায় বেশ কিছু হট এবং সাহসী দৃশ্য রয়েছে। সিনেমায় বিয়ে করেও এক যুবককে প্রলুব্ধ করতে দেখা যায় তাকে। এই মুভিতে আরও দেখানো হয়েছে যে যুবকটি আরও তিনজন পুরুষের দ্বারা ধর্ষিত হচ্ছে। পরিচালক অজয় বাহল বেশ ঝুঁকি নিয়েছিলেন যখন সিনেমায় এই ধরনের সাহসী দৃশ্যগুলি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তবে এটি আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছে।
দেব ডি: দেবদাস এর আধুনিক অনুকরণে ‘দেব ডি’ বরাবরই টিন এজের জন্য জনপ্রিয় একটি সিনেমা৷ অনুরাগ কাশ্যপ পরিচালিত চিরকালীন দেবদাসীয় অনুভূতির এই স্মার্ট ভার্সন আসলে এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের কাছে অনেকটাই যেন আয়নায় মুখ দেখার মতোই৷ মুক্তির পরপরই বেশ আলোচিত ছিল সিনেমাটি।
লাভ সেক্স অউর ধোঁকা: প্রেম আর শারীরিক সম্পর্কের টানটান উত্তেজনায় এই সিনেমাটি বার বারই সদ্য যৌবনের সেরা চাহিদা৷ উত্তেজক দৃশ্যের কারণে হোক কিংবা ধোঁকা বা প্রতারণাই হোক, সিনেমাটি বেশ আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল সেই সময়। টিন এজারদের কাছে বেশ জনপ্রিয় একটি সিনেমা এটি।
রাগিণী এমএমএস : কিছুটা সত্য ঘটনার আদলে তৈরি এই সিনেমাটি অল্পবয়সী ছেলে-মেয়েদের ভুল পদক্ষেপই ব্যাখ্যা করে৷ যদিও ‘রাগিণী এমএমএস-২’ সিনেমাটিও সমানভাবে টিনএজারদের মধ্যে জনপ্রিয়। কারণ সেখানে যেভাবে সানি লিওনকে দেখা গিয়েছে তা রীতিমত সবার মনে ঝড় তুলে দেয়।
মায়া মেমসাহেব : বিবাহবহির্ভুত প্রেম এবং সাসপেন্স থ্রিলারের আড়ম্বরে মায়া মেমসাহেব বলিউডে এনে দিয়েছিল এক নতুন চমক৷ সেইসঙ্গে শারীরিক আকর্ষণের রসদ তো আছেই৷ সিনেমাটির নায়িকা দিপা সাহির একটি সাহসী দৃশ্যে অভিনয় দেখে চমকে গিয়েছিল সকলে। সঙ্গে ছিলেন বলিউড বাদশা শাহরুখ খান। শাহরুখকে এমন একটি দৃশ্যে দেখে এখন অনেকেই হয়ত ঘাবড়ে যাবেন, তবে সেই সময়ে শাহরুখ নির্দ্বিধায় করেছেন এই দৃশ্য।
কামসূত্র থ্রিডি : এই সিনেমাটি টিন এজারদের আর এক হট ফেভারিট৷ প্রচন্ড যৌনতাকে কেন্দ্র করে নির্মিত সিনেমাটি সেই সময় সিনেমা হল বা ওটিটি, কোথাও মুক্তি পায়নি। বিতর্কিত এই সিনেমাটির মুক্তির বিরুদ্ধে বেশ জনমত ওঠে। অনলাইনের কিছু ওয়েবসাইটে সিনেমাটি পাওয়া যায়, তবে অবশ্যই আর্থিক সুবিধার মাধ্যমে দর্শক সেটি দেখতে পারে।