পূর্ব বর্ধমানে ঝুলন উৎসবের জাঁকজমক, দুর্গাপূজার আমেজে মাতোয়ারা দুই গ্রাম!

দুর্গাপূজার এখনো অনেক দেরি, কিন্তু তার আগেই যেন পূজার আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে পূর্ব বর্ধমানের দুটি গ্রামে। পূর্বস্থলী ১ ব্লকের ধোবা গ্রাম এবং কালনা ১ ব্লকের নান্দাই গ্রামে সাড়ম্বরে পালিত হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ঝুলন উৎসব। এই উৎসব দেখতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষের ঢল নেমেছে। সন্ধ্যা নামলেই ক্লাবগুলোর সামনে তৈরি হচ্ছে উপচে পড়া ভিড়, যা দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করছে।
গত কয়েক দশক ধরে এই দুটি গ্রামে অত্যন্ত জাঁকজমকের সঙ্গে ঝুলন উৎসব আয়োজিত হয়ে আসছে। স্থানীয় ক্লাবগুলো এই উৎসবে চোখ ধাঁধানো থিম এবং প্যান্ডেল তৈরি করে। তবে এই উৎসবের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো ‘সিনারি’ বা প্রাকৃতিক দৃশ্যের উপস্থাপন, যা একসময় দুর্গাপূজার প্যান্ডেলের একটি অপরিহার্য অংশ ছিল কিন্তু এখন প্রায় বিলুপ্ত। ধোবা ও নান্দাই গ্রামে সেই ঐতিহ্য এখনও টিকে আছে। ধোবা স্বাধীন সংঘ ক্লাবের সম্পাদক পিন্টু সিকদার জানান, “এই বছর আমাদের ৪৭তম বছর। আমরা প্রথম দিনেই শ্রীকৃষ্ণকে নিয়ে থিম রেখেছি এবং এই উৎসব পাঁচ দিন ধরে চলবে।”
ঝুলন উৎসবের আরেক বিশেষ আকর্ষণ হলো ‘মানুষ ঝুলন’। এখানে স্থানীয় বাসিন্দারা বিভিন্ন পৌরাণিক ঘটনা, বিশেষ করে রাধা-কৃষ্ণের কাহিনি অভিনয়ের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলেন। নান্দাই তরুণ সংঘ ক্লাবের সম্পাদক গণেশ হালদার বলেন, “ঝুলন উৎসব আমাদের প্রধান উৎসব। এই কয়েকটা দিন আমরা খুবই আনন্দ ও ব্যস্ততার মধ্যে কাটাই।”
এই উৎসবকে ঘিরে দুই গ্রামের বাসিন্দারা যেমন উচ্ছ্বসিত, তেমনি কলকাতা, ব্যান্ডেল, নবদ্বীপ-এর মতো শহর থেকেও বহু মানুষ এই শিল্পকর্ম দেখতে ভিড় করছেন। সন্ধ্যাবেলায় আলোর রোশনাইয়ে সেজে ওঠা প্যান্ডেলগুলো এবং সেখানে প্রদর্শিত নান্দনিক থিমগুলো দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন দর্শনার্থীরা। ঝুলন উৎসব এখন আর শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি একটি শিল্প ও সংস্কৃতির মিলনক্ষেত্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।