পদার্থবিদ্যার নিয়ম মানে না এমন তারার খোঁজ মিললো, জেনেনিন দেখে কি বলছেন বিজ্ঞানীরা

মহাকাশে এমন এক অদ্ভুত মহাজাগতিক বস্তুর সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা, যা তাদের প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। ‘চাইম জে১৬৩৪+৪৪’ নামের এই বস্তুটি ‘লং পিরিয়ড রেডিও ট্রানজিয়েন্টস’ (LPTS) শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হলেও, এর আচরণ একেবারে আলাদা। অন্যান্য মহাজাগতিক বস্তু যেখানে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ঘুরতে থাকে, সেখানে এটি ক্রমশ দ্রুত ঘুরছে, যা পদার্থবিজ্ঞানের নিয়মের সঙ্গে মেলে না।
এই গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন-এর একজন ফেলো, ফেংকিউ অ্যাডাম ডং। তিনি এবং তার দল বিশ্বের শক্তিশালী রেডিও টেলিস্কোপ ব্যবহার করে এই রহস্যময় বস্তুর ওপর নজর রেখেছেন। এটি এমন শক্তিশালী রেডিও সিগন্যাল বা সংকেত পাঠাচ্ছে, যা বিজ্ঞানীরা আগে কখনও দেখেননি।
অদ্ভুত আচরণের কারণ কী?
সাধারণত নিউট্রন তারা বা হোয়াইট ডোয়ার্ফ নামের ঘূর্ণায়মান বস্তুগুলো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শক্তি হারিয়ে ধীরে হয়ে যায়। কিন্তু ‘চাইম জে১৬৩৪+৪৪’ ঠিক এর উল্টো আচরণ করছে। এটি দুটি ভিন্ন সময়চক্রে রেডিও সংকেত পাঠায়: কখনও প্রতি ১৪ মিনিট পরপর, আবার কখনও ৭০ মিনিটের ব্যবধানে।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই অদ্ভুত সংকেতের কারণ হতে পারে যে, এটি আসলে একটি ‘ক্লোজ বাইনারি সিস্টেম’। অর্থাৎ, দুটি মহাজাগতিক বস্তু একে অপরকে ঘিরে ঘুরছে। এই দুটি তারা একে অপরের এত কাছে আছে যে তারা ধীরে ধীরে শক্তি হারাচ্ছে। সম্ভবত মহাকর্ষীয় তরঙ্গ ছাড়ার কারণে এমনটা ঘটছে। এর ফলে এদের কক্ষপথ ছোট হয়ে আসছে এবং মূল বস্তুটি দ্রুত ঘুরতে শুরু করেছে।
অন্যান্য বিরল বৈশিষ্ট্য
‘চাইম জে১৬৩৪+৪৪’ থেকে আসা রেডিও তরঙ্গ ১০০% ‘সার্কুলারলি পোলারাইজড’ বা নিখুঁত সর্পিলার আকৃতিতে মহাকাশে ছড়াচ্ছে। এটি একটি বিরল ঘটনা, কারণ এমন নিখুঁত ঘূর্ণায়মান রেডিও তরঙ্গ আগে কোনো পরিচিত নিউট্রন তারা বা হোয়াইট ডোয়ার্ফে দেখা যায়নি। এই বৈশিষ্ট্য থেকে ইঙ্গিত মেলে যে, এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের এক প্রক্রিয়ায় রেডিও তরঙ্গ তৈরি করছে।
এই অদ্ভুত আচরণের জন্য গবেষক ডং এটিকে একটি ‘ইউনিকর্ন’ বা বিরল বস্তু বলে বর্ণনা করেছেন। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, মহাকাশে এমন আরও অনেক রহস্যময় বস্তু লুকিয়ে থাকতে পারে এবং এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে মহাবিশ্বের আরও অনেক অজানা রহস্য উন্মোচন করতে সাহায্য করবে।