কোচবিহার সফরে শুভেন্দু! বিজেপি কর্মীকে মারধরের অভিযোগ ও পাল্টা কর্মসূচি ঘিরে উত্তাপ

মঙ্গলবার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কোচবিহার সফর ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে পৌঁছেছে। শুভেন্দু আসার আগেই এক বিজেপি কর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন শুভেন্দু। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসও শুভেন্দুর সফরের পাল্টা হিসেবে একাধিক প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে, যদিও শুভেন্দু তা আমল দিতে রাজি নন।

শুভেন্দুর সফরের আগে বিজেপি কর্মীকে মারধর:
শুভেন্দু অধিকারীর কোচবিহার সফরের আগে থেকেই জেলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করে। সোমবার রাতে তুফানগঞ্জ এলাকায় এক বিজেপি কর্মীকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, শুভেন্দুর কর্মসূচি বানচাল করার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিক্রিয়া ও কড়া বার্তা:
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “তৃণমূল ভয় পেয়ে এখন বিজেপির ওপর হামলা চালাচ্ছে। কিন্তু এই ধরনের কাপুরুষোচিত কাজ করে তারা আমাদের আটকাতে পারবে না।” শুভেন্দু আরও বলেন, “গণতন্ত্রে রাজনৈতিক কর্মসূচি করার অধিকার সবার আছে। তৃণমূলের এই ধরনের গুন্ডাগিরি বাংলার মানুষ মেনে নেবে না।” তিনি এই ঘটনার জন্য পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

তৃণমূলের পাল্টা কর্মসূচি:
শুভেন্দু অধিকারীর সফরের প্রতিবাদে তৃণমূল কংগ্রেসও একাধিক পাল্টা কর্মসূচি নিয়েছে। শুভেন্দুর কনভয়ের যাত্রাপথে বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল কর্মীরা তাঁকে কালো পতাকা দেখিয়েছেন এবং স্লোগান দিয়েছেন। তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, শুভেন্দু রাজ্যে সাম্প্রদায়িক বিভাজন সৃষ্টি করতে চাইছেন, যার প্রতিবাদে এই কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

শুভেন্দুর মনোভাব:
যদিও তৃণমূলের এই পাল্টা কর্মসূচিকে শুভেন্দু অধিকারী বিশেষ আমল দিতে রাজি নন। তিনি বলেন, “আমি এইসব ছোটখাটো বিষয় নিয়ে ভাবি না। আমার লক্ষ্য রাজ্যের মানুষকে তৃণমূলের অপশাসন থেকে মুক্তি দেওয়া।” তিনি আরও বলেন, “তৃণমূলের এই ধরনের নাটক আমি আগেও অনেক দেখেছি। এগুলো করে কোনো লাভ হবে না।” শুভেন্দুর এই কড়া বার্তা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তিনি রাজনৈতিক সংঘাতের জন্য প্রস্তুত এবং কোনো বাধা তাঁকে আটকাতে পারবে না।