ঘূর্ণন গতিতে বড় পরিবর্তন, ধ্বংসের দিকে কত পা এগিয়ে পৃথিবী! কী জানালেন বিজ্ঞানীরা?

পৃথিবী তার অক্ষের ওপর আগের চেয়ে একটু দ্রুত ঘুরছে, যার ফলে আমাদের দিনগুলো সামান্য ছোট হয়ে আসছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এই প্রবণতা ২০২০ সাল থেকে লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং এর ধারাবাহিকতায় ২০২৯ সালের মধ্যে ঘড়ি থেকে একটি ‘লিপ সেকেন্ড’ বাদ দিতে হতে পারে। এটি ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ঘটবে।
দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তনের ইতিহাস:
পৃথিবীর ঘূর্ণনের গতি পরিবর্তন নতুন কিছু নয়। লক্ষ লক্ষ বছর ধরে এই গতি ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, যখন ডাইনোসররা পৃথিবীতে বিচরণ করত, তখন একটি দিন ছিল প্রায় ২৩ ঘন্টা দীর্ঘ। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদী এই ধারা চলতে থাকলে প্রায় ২০ কোটি বছর পর একটি দিনের দৈর্ঘ্য ২৫ ঘন্টা হতে পারে। তবে, বর্তমানে এর বিপরীত ঘটনা ঘটছে।
কারণ কী?
কেন এখন দিন ছোট হচ্ছে, তার পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। পৃথিবীর একটি পূর্ণ ঘূর্ণন সম্পন্ন করতে সাধারণত ৮৬,৪০০ সেকেন্ড সময় লাগে। কিন্তু সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা, আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ, ভূমিকম্প এবং এমনকি পৃথিবীর অভ্যন্তরের পরিবর্তনও এই গতিকে প্রভাবিত করতে পারে।
২০২০ সাল থেকে দ্রুত ঘূর্ণন:
আন্তর্জাতিক পৃথিবী ঘূর্ণন এবং রেফারেন্স সিস্টেম পরিষেবা (IERS)-এর তথ্য অনুযায়ী, যদিও শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পৃথিবীর ঘূর্ণনের গতি কমছিল, ২০২০ সাল থেকে এটি আবার দ্রুত হতে শুরু করেছে। এই পরিবর্তন এতটাই ধারাবাহিক যে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, ঘড়ির সময়কে পৃথিবীর ঘূর্ণনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে ২০২৯ সালে একটি লিপ সেকেন্ড বিয়োগ করার প্রয়োজন হতে পারে।
ভবিষ্যতের পূর্বাভাস:
timeanddate.com-এর এক প্রতিবেদন অনুসারে, এই দ্রুত ঘূর্ণনের ধারা ২০২৫ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। সেই বছরের সবচেয়ে ছোট দিনগুলি হতে পারে ৯ জুলাই, ২২ জুলাই এবং ৫ আগস্ট। ৫ আগস্টে পৃথিবীর ঘূর্ণন স্বাভাবিক ২৪ ঘন্টার চেয়ে ১.৫১ মিলিসেকেন্ড কম হতে পারে। এই ঘটনাগুলি বিজ্ঞানীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ এটি আমাদের সময়ের হিসাবকে প্রভাবিত করতে পারে।