‘আনফলো থেকে ফলো’- ১০ বছর পর দূরত্ব ঘুচল দেব-শুভশ্রীর, মুগ্ধ জনতা!

দীর্ঘ এক দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ১৪ই আগস্ট মুক্তি পেতে চলেছে বহু প্রতীক্ষিত ছবি ‘ধূমকেতু’। আর এই ছবির ট্রেলার লঞ্চ অনুষ্ঠানেই ১০ বছরের পুরনো দূরত্বের পালা শেষ হলো জনপ্রিয় অভিনেতা দেব এবং অভিনেত্রী শুভশ্রীর। মঙ্গলবার নজরুল মঞ্চে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তাঁদের একসঙ্গে দেখে আবেগ ও উচ্ছ্বাসে ভেসে গেলেন অগণিত ভক্তরা।

একসময় একে অপরকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘আনফলো’ করে দিয়েছিলেন তাঁরা। সেই বিষয়ে শুভশ্রী নিজেই জনতার সামনে সত্যিটা সামনে আনেন এবং জানান যে, দেবই প্রথমে তাঁকে আনফলো করেছিলেন। তবে, গত এক বিকেলে সেই সব অভিমান ভুলে তাঁরা একে অপরকে ফের ফলো করা শুরু করেছেন।

‘ধূমকেতু’-র ট্রেলার লঞ্চের মঞ্চে হাতে হাত রেখে প্রবেশ করেন দেব এবং শুভশ্রী। যদিও তাঁদের মধ্যে এক প্রচ্ছন্ন দূরত্ব ছিল, কিন্তু তা আড়াল করতে দেব শুরু করেন খুনসুটি। শুভশ্রীও থেমে থাকেননি। তাঁরা একে অপরের জন্য গানও গেয়েছেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন অভিনেতা রোহন ভট্টাচার্য। রোহনের এক প্রশ্নের জবাবে দেব বলেন, “শুভশ্রী এখন লেডি সুপারস্টার। ওকে দেখতে গেলে উঁকি দিতে লাগে না। সমাজমাধ্যমের পাতায় ওঁকে এমনিই দেখা যায়।”

শুভশ্রী এদিন দেবের প্রযোজনা সংস্থার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি জানান, একসময় তিনি চেয়েছিলেন দেব যদি প্রোডাকশন হাউস খোলেন, তবে প্রথম ছবির নায়িকা তিনি হবেন। যদিও দেব সেই কথা রাখেননি। এমন অনেক অজানা গল্প উঠে আসে তাঁদের আলাপচারিতায়। গত বছর রাজ চক্রবর্তীর ‘সন্তান’ এবং দেবের ‘খাদান’ একসঙ্গে মুক্তি পেয়েছিল। সেই সময়ে ‘সন্তান’-এর প্রচারে শুভশ্রীর হাসি দেখেই দেব তাঁর ‘খাদান’-এর প্রচার বাড়িয়ে দিয়েছিলেন বলে জানান। এই কথা শুনে শুভশ্রী মজা করে বলেন, “আমার একটা হাসিই তা হলে প্রচারের গতি বাড়িয়ে দিতে পারে!”

‘দেশু’ নামে পরিচিত এই জনপ্রিয় জুটিকে একসঙ্গে দেখে তাঁদের ভক্তরা আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। এমনকি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনুরাগীরা হাজির হয়েছিলেন এই ট্রেলার লঞ্চ অনুষ্ঠানে। কথা প্রসঙ্গে দেব যখন বলেন, “সবই তো আমার!”, তখন শুভশ্রীর রসিক পাল্টা জবাব ছিল, “ভাগ্যিস বলোনি, ‘সন্তান’ও তোমার।” এরপর দেব পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর প্রশংসা করে বলেন, “আমি আর রাজ সোজাসুজি মনের কথা বলতে পারি, এই ক্ষেত্রে আমরা দু’জনই একরকম।”

সবশেষে দেব ও শুভশ্রী একে অপরের মঙ্গল কামনা করেন এবং জানান যে তাঁরা দু’জনেই এখন নিজেদের জীবনে সুখী। অনুষ্ঠান শেষ হয় তাঁদের পুরনো ছবি ‘চ্যালেঞ্জ’, ‘পরাণ যায় জ্বলিয়া রে’ এবং ‘রোমিয়ো’-এর জনপ্রিয় গানের সঙ্গে নাচের মাধ্যমে। এই উজ্জ্বল সন্ধ্যাটি ছিল অনুরাগীদের জন্য এক বিশেষ মুহূর্ত।