২০২৬ নির্বাচনের আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে নতুন সুবিধা! সেপ্টেম্বর থেকে বাড়বে টাকা? কী জানালো মমতা

আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্য সরকার একাধিক নতুন প্রকল্প চালু করার পাশাপাশি বিদ্যমান জনপ্রিয় প্রকল্পগুলির সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প, যার মাধ্যমে রাজ্যের মহিলাদের মাসিক ১০০০ টাকা (তপশিলি জাতি ও উপজাতির ক্ষেত্রে ১২০০ টাকা) আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। এবার এই প্রকল্পে নতুন কিছু সুযোগ-সুবিধা যুক্ত করার পাশাপাশি আরও বহু মহিলাকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার।

সম্প্রতি বীরভূমের একটি সরকারি পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন যে, ডিসেম্বর মাস থেকে নতুন গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টে ভাতা জমা পড়া শুরু হবে। তিনি জানান, বর্তমানে এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৯ লক্ষ ২৫ হাজার মহিলা উপকৃত হচ্ছেন এবং অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় এই প্রকল্পে কোনো কঠোর শর্ত নেই। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, অন্য রাজ্যে স্কুটি বা পাকা বাড়ি থাকলে এই ধরনের ভাতা পাওয়া যায় না, কিন্তু বাংলায় এমন কোনো সীমাবদ্ধতা নেই, যার ফলে আরও বেশি সংখ্যক মহিলা এই প্রকল্পের আওতায় আসতে পারবেন।

এই প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা বাড়ানো নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে জল্পনা চলছে। শোনা যাচ্ছে, সাধারণ মহিলাদের ভাতা ১০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০০ টাকা এবং তপশিলি মহিলাদের ভাতা ১২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৮০০ টাকা করা হতে পারে। তবে, এই বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সরকারি ঘোষণা আসেনি।

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “২৫ বছর বয়স থেকে শুরু করে সারাজীবন এই ভাতা মিলবে। মা-বোনেরা নিশ্চিন্তে থাকুন, আমরা যা বলি, তা করি।” তিনি জানান, শেষ দফার ‘দুয়ারে সরকার’ কর্মসূচিতে জমা পড়া আবেদনগুলির ৯০ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি ১০ শতাংশ কাজ শেষ হলেই ডিসেম্বর মাস থেকে নতুন গ্রাহকরা ভাতা পেতে শুরু করবেন।

‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’, ‘বিধবা ভাতা’, ‘বার্ধক্য ভাতা’, ‘কন্যাশ্রী’ এবং ‘যুবশ্রী’-এর মতো প্রকল্পগুলি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করে রাজ্য সরকার। আসন্ন নির্বাচনের আগে এই প্রকল্পটির পরিধি আরও বাড়িয়ে তৃণমূল কংগ্রেস নিজেদের জনসমর্থন আরও শক্তিশালী করতে চাইছে বলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছে।