বর্ষায় বেহাল আরামবাগের রাস্তা, ‘নেতাদের পাড়ায় হয়, আমাদের বেলায় নেই’ , ফুঁসছে গ্রামবাসী

বর্ষা এলেই বাংলার রাস্তাঘাটের আসল চিত্রটা ফুটে ওঠে, আর সেই একই ছবি দেখা গেল আরামবাগের মলয়পুর ২ পঞ্চায়েতের পূর্ব কেশবপুর গ্রামে। টানা বৃষ্টির কারণে গ্রামের প্রায় ২ কিলোমিটার রাস্তার অবস্থা এমনই শোচনীয় যে, ছেলে-মেয়েরা এক হাঁটু কাদা মাড়িয়ে স্কুলে যাচ্ছে। গ্রামবাসীদের একটাই অভিযোগ, “নেতাদের পাড়ায় রাস্তা হয়, আমাদের বেলায় কিছুই নেই।” যদিও, রাজ্যের মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী সরকারের উপর ভরসা রাখার কথা বলছেন।
পূর্ব কেশবপুরের হাজরাপাড়া এবং বাউরিপাড়ার মানুষজন এই বেহাল রাস্তা নিয়ে চরম ক্ষুব্ধ। মানা হাজরা নামে গ্রামের এক মহিলা বলেন, “দু’মাস ধরে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। আর এইটাই আমাদের মেইন রাস্তা। সেখানে তার অবস্থা যদি এমন হয়… শরীর খারাপ হলে বেরতে পারি না। আমাদের রাস্তা অবশ্যই দরকার। পার্টির লোক কোনো গ্রাহ্য করে না। ওদের বাড়ি, গোলি সব জায়গাতেই রাস্তা। আমাদের বেলায় কিছুই নেই। ভোটের সময় ভোট চাইতে আসে আর এমনি সময় পাত্তা নেই।”
আরেক গ্রামবাসী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে রাস্তাটি করে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “ছেলেটা স্কুলে যেতে পারে না, আমি ব্যবসার কাজে যেতে পারি না, এই রাস্তার জন্য প্রসূতি মহিলাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া যায় না।” রিনা সাঁতরা নামে আরও এক মহিলা বলেন, “ছ’বছর ধরে রাস্তা হচ্ছে না। খালি বলে হ্যাঁ হয়ে যাবে। দিদি বলব রাস্তা করে দিন। দিদি তো সাইকেল দিয়েছেন। রাস্তাই নেই তো সাইকেলে চেপে যাবে কী ভাবে?” তাদের অভিযোগ, ১০২ অ্যাম্বুলেন্সও এই গ্রামে ঢোকে না রাস্তার বেহাল দশার কথা শুনে। গ্রামবাসীদের নিত্যদিন কাদা ঘেঁটেই হাট-বাজার করতে হয়।
এই অভিযোগের উত্তরে রাজ্যের মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী বলেন, “বাংলার যদি একদম তৃণমূল স্তরে চলে যান দেখতে পাবেন, যে রাস্তাগুলি কাদা মাড়িয়ে যেতে হত সেখানে ঢালাই রাস্তা হয়েছে। আর পিচের রাস্তা তো খানিক ভেঙে যাবে। কারণ পিচের শত্রু হল জল। তাই কিছু-কিছু জায়গায় রাস্তার সমস্যা আছে। মানুষের দাবি এই সরকারই পূরণ করবে।” যদিও গ্রামবাসীদের দাবি, ভোটের সময় সকলেই প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু রাস্তা আর হয় না। এই রাস্তাটি নিয়ে জেলার শাসক নেতা তথা পরিবহন মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তীও সরকারের উপর আশ্বাস রাখতে বলেছেন।