অনিল আম্বানি ঋণ জালিয়াতি, বিটিপিএল অধিকর্তা পার্থসারথি বিশ্বাল ইডি হেফাজতে

এক মুহূর্তও দেরি করল না এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। অনিল আম্বানির ৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ ‘প্রতারণা’ মামলায় বড়সড় মোড় নিয়েছে। শুক্রবার কলকাতা ও ভুবনেশ্বরের একাধিক জায়গায় তল্লাশি অভিযানের পর দিন পেরোতেই প্রথম গ্রেফতারিটা করে ফেলল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

শনিবার বিশ্বাল ট্রেডলিঙ্ক প্রাইভেট লিমিটেড (বিটিপিএল)-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর পার্থসারথি বিশ্বালকে আর্থিক তছরুপের মামলায় হেফাজতে নিয়েছে ইডি। গতকালই কলকাতা ও ভুবনেশ্বরে অবস্থিত বিটিপিএল-এর বিভিন্ন অফিস ও দপ্তরে অভিযান চালিয়েছিল ইডি। সেই অভিযানের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টরকে গ্রেফতার করা হলো।

কিন্তু কী এমন পেলেন ইডি আধিকারিকরা এই অভিযানে, যার জেরে এই সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টরকে গ্রেফতার করা হলো? আর অনিল আম্বানির হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির সঙ্গে এই সংস্থার নাম কীভাবে জড়িয়ে গেল? জানা গেছে, স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (এসবিআই)-এর অভিযোগের ভিত্তিতে দিল্লি পুলিশের ইকনমিক অফেন্স উইং (ইওডব্লিউ) বিটিপিএল-এর বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপের মামলা দায়ের করেছিল। অভিযোগ, অনিল আম্বানির যে ঋণ সংক্রান্ত কারচুপি হয়েছিল, তাতে এই সংস্থাই ভুয়ো ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি প্রদান করেছিল। এই সূত্র ধরেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে।

ইডি সূত্রে খবর, রিলায়েন্সের কাছ থেকে সেই ভুয়ো নথির বিনিময়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা পেয়েছিল এই সংস্থা। এমনকি, এসবিআই অনিল আম্বানির সংস্থার যে ‘প্রতারণার’ কথা বলেছিল, সেই তদন্তে পৌঁছানোর জন্য বিটিপিএল-ই ইডির কাছে অন্যতম ‘সংযোগ’ ছিল। ইতিমধ্যেই পার্থসারথিকে বিশেষ আদালতে হাজির করানো হয়েছে এবং বিচারক তাকে আগামী বুধবার পর্যন্ত ইডি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।