মুর্শিদাবাদে পরকীয়ার বলি নাবালিকা, মামীর হাতেই খুন ৯ বছরের খাদিজা, উত্তাল ভৈরব নদীতীর

পরকীয়ার সম্পর্ক দেখে ফেলায় এক ৯ বছর বয়সী নাবালিকাকে নদীতে ডুবিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠল তার মামীর বিরুদ্ধে। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদ থানার ধরমপুর এলাকায়। পুলিশ অভিযুক্ত মামী সিরিনা বিবিকে গ্রেফতার করেছে এবং তার বয়ানের ভিত্তিতে দু’দিন নিখোঁজ থাকার পর আজ শনিবার ভৈরব নদী থেকে নাবালিকার দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত নাবালিকার নাম খাদিজা খাতুন, যার বাড়ি মুর্শিদাবাদ থানার হাসানপুর চৌধুরী পাড়ায়। অভিযুক্ত মামী সিরিনা বিবির স্বামী অর্থাৎ খাদিজার মামাও কেরলে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করেন। পরিবারের দাবি, গুধিয়ার এক যুবকের সঙ্গে সিরিনা বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন।
হৃদয়বিদারক খুনের নেপথ্যে:
মৃত খাদিজার বাবা কর্মসূত্রে দুবাইয়ে থাকেন এবং খাদিজা মামার বাড়িতে থেকেই লেখাপড়া করত। মৃতের আত্মীয় মইদুল শেখের কথায়, খাদিজা তার মামী সিরিনা বিবিকে সেই যুবকের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেছিল। খাদিজা হয়তো এই বিষয়টি কাউকে বলে দিতে পারে, এই সন্দেহে সিরিনা তাকে নদীর ধারে ডেকে নিয়ে যায় এবং সেখানেই জলে ডুবিয়ে মেরে ফেলে। এরপর দেহ লোপাটের চেষ্টা করে সিরিনা। পুলিশি জেরায় অভিযুক্ত এই নৃশংস ঘটনার কথা স্বীকার করেছে।
তদন্ত ও দেহ উদ্ধার:
গত ৩১ জুলাই থেকে নিখোঁজ ছিল খাদিজা। সেদিন রাতেই পরিবারের পক্ষ থেকে মুর্শিদাবাদ থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ গ্রামের তিনটি সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে। তাতে দেখা যায়, ৩১ জুলাই দুপুর ১২টা ৯ মিনিট নাগাদ সিরিনা খাদিজাকে নদীর দিকে নিয়ে যাচ্ছে। গ্রামের কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীও এই দৃশ্য দেখেছেন।
এরপর সিরিনাকে আটক করে পুলিশ দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। জেরায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে সিরিনা ঘটনার কথা স্বীকার করে। তার বয়ান থেকে পুলিশ জানতে পারে যে, খাদিজাকে জলে ডুবিয়ে খুন করে ভৈরব নদীতে দেহ লোপাটের চেষ্টা করা হয়েছিল। সিরিনার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডুবুরি নামিয়ে আজ দুপুরে ভৈরব নদী থেকে খাদিজার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয় এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার (লালবাগ) রাসপ্রীত সিং জানিয়েছেন, মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। তদন্তে নেমে ঘটনায় জড়িত একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে আর কেউ জড়িত রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সিরিনার প্রেমিককেও আটক করা হয়েছে।
মৃতের কাকা মিলন শেখ দাবি করেছেন, “মামীর গোপন কিছু দেখে ফেলেছিল খাদিজা। তার জন্যই তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই খুনের ঘটনায় গুধিয়ার যুবকও জড়িত রয়েছে। আমার চাই দুজনেরই দৃষ্টান্তমূলক সাজা হোক।” এই জঘন্য ঘটনা মুর্শিদাবাদের সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।