“কোনও তেলের ভাণ্ডার নেই”-ট্রাম্পকে ভুল বুঝিয়েছেন মুনির,বলছে পাকিস্তানী নেতারাই!

পাকিস্তানের তেলের ভাণ্ডার নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘মিথ্যা তথ্য’ দেওয়া হচ্ছে বলে বিস্ফোরক দাবি করেছেন বালুচিস্তানের জ্যেষ্ঠ নেতা মীর ইয়ার বালোচ। তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে পাকিস্তানে আসলে কোনো তেলের ভাণ্ডার নেই এবং পাক সেনাপ্রধান জেনারেল আসীম মুনির আমেরিকাকে ভুল পথে চালিত করছেন। মীর ইয়ার বালোচ এও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে বালুচিস্তানের প্রাকৃতিক সম্পদ লুঠ করার চেষ্টা করলে তা আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করবে।

বালুচিস্তানের তেলের দাবি নিয়ে নতুন বিতর্ক
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে আমেরিকা পাকিস্তানের সঙ্গে তেল চুক্তি স্বাক্ষর করেছে এবং খোঁচা দিয়ে বলেন যে ভবিষ্যতে ভারতও হয়তো পাকিস্তানের কাছ থেকে তেল কিনবে। এর আগে পাকিস্তান একাধিকবার তাদের ভূখণ্ডে প্রাকৃতিক সম্পদ, বিশেষ করে তেলের বিশাল ভাণ্ডার আবিষ্কারের দাবি করেছিল। এই ঘোষণার পরই বালুচিস্তানের স্থানীয় নেতা মীর ইয়ার বালোচ এক ভিডিও বার্তায় এই দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেন।

মীর ইয়ার বালোচের বিস্ফোরক অভিযোগ
মীর ইয়ার বালোচ স্পষ্ট জানিয়েছেন, তেল, গ্যাস, তামা, লিথিয়াম এবং ইউরেনিয়ামের মতো প্রাকৃতিক সম্পদ পাঞ্জাব বা পাকিস্তানের অন্য কোনো অংশে নয়, বরং কেবল বালুচিস্তানেই রয়েছে। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেছেন যে এই সম্পদের ওপর একমাত্র অধিকার বালুচিস্তানের জনগণের। তাঁর অভিযোগ, পাকিস্তান সরকার বালুচিস্তানের সম্পদ বিক্রি করে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

ভিডিওতে মীর ইয়ার বালোচ বলেন, “পাকিস্তানের কাছে কোনো তেলের ভাণ্ডার নেই। জেনারেল মুনির আপনাদের মিথ্যা দাবি করে ভুল পথে চালিত করেছে। বালুচিস্তানের প্রাকৃতিক সম্পদ শুধুমাত্র বালোচদেরই। তাদের সম্পত্তি ছাড়া বালুচিস্তানের সম্পদ বা জমি—কিছুই বিক্রি করা যাবে না। সাধারণ মানুষদের এড়িয়ে কোনো পদক্ষেপ করবেন না।”

৯/১১ হামলার পুনরাবৃত্তির হুঁশিয়ারি
মীর ইয়ার বালোচ আরও কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, “পাকিস্তানের সেনাকে বালুচিস্তানের সম্পদ লুট করতে দেওয়া ভয়ঙ্কর অপরাধ হবে। এই সম্মতি আইএসআই-এর গতিবিধি ও কার্যকলাপ বৃদ্ধি পাবে, বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্ক বৃদ্ধি পাবে, জঙ্গি নিয়োগ এবং ৯/১১-এর মতো আবারও সন্ত্রাসবাদী হামলা হতে পারে।”

উল্লেখ্য, চলতি বছরের জুন মাসেই পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসীম মুনির মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। সূত্র মতে, সেই বৈঠকেই পাকিস্তানের কথিত তেলের ভাণ্ডার নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। বালুচ নেতার এই দাবি আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে পাকিস্তানের প্রাকৃতিক সম্পদ এবং বালুচিস্তান ইস্যু নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।