‘বাঙালি হেনস্তার’ প্রতিবাদে রাজভবন অভিযান, উত্তাল কলকাতা, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে গ্রেফতার ৪৫ কংগ্রেস কর্মী

বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্তার প্রতিবাদে আজ রাজভবন অভিযান ঘিরে উত্তাল হয়ে ওঠে কলকাতা। সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার থেকে শুরু হওয়া কংগ্রেসের এই প্রতিবাদী মিছিল এলিট সিনেমার সামনে পুলিশি ব্যারিকেডে আটকে যায়। এরপরই পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের তীব্র ধস্তাধস্তি শুরু হয়, যার জেরে প্রায় ৪৫ জন কংগ্রেস কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সাম্প্রতিককালে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্তার অভিযোগ উঠছে। বিশেষ করে হরিয়ানায় এক বাঙালি শ্রমিককে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে হেনস্তা এবং তার ঠাকুরদার জমির দলিল চাওয়ার ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদেই আজ প্রদেশ কংগ্রেস এই রাজভবন অভিযানের ডাক দিয়েছিল।
সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি যখন এলিট সিনেমার সামনে পৌঁছায়, তখন পুলিশ আগে থেকেই ব্যারিকেড তৈরি করে পথ আটকে রাখে। পুলিশি ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে কংগ্রেস কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক ধস্তাধস্তি শুরু হয়। কংগ্রেস কর্মীরা স্লোগান দিতে দিতে ব্যারিকেড টপকানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু পুলিশ তাদের বাধা দেয় এবং বলপ্রয়োগ করে।
এই সংঘর্ষের সময় পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, পুলিশকে লাঠিচার্জ না করলেও বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে টেনে-হিঁচড়ে প্রিজন ভ্যানে তুলতে দেখা যায়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, প্রায় ৪৫ জন কংগ্রেস কর্মীকে গ্রেফতার করে লালবাজার সেন্ট্রাল লকআপে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
কংগ্রেস নেতৃত্ব এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকার তীব্র নিন্দা করেছেন। তাদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে পুলিশ অগণতান্ত্রিকভাবে বাধা দিয়েছে এবং তাদের কর্মীদের উপর বলপ্রয়োগ করেছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী এই গ্রেফতারির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং অবিলম্বে আটক কর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতেই এবং অননুমোদিত জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বাঙালি শ্রমিকদের হেনস্তার অভিযোগ এবং তার প্রতিবাদে কংগ্রেসের এই রাজভবন অভিযান, রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। আগামী দিনে এই ইস্যু আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।