খ্যাতির শিখরেও পুরাতন সঙ্গী ভুবন কাকুর ভাঙা বাইক, ‘ভাগ্যবদলের সঙ্গী ছাড়ব কেন?’

‘বাদাম বাদাম দাদা কাঁচা বাদাম’ গানের জাদুতে যিনি একসময় গোটা বাংলার মন জয় করেছিলেন, বীরভূমের সেই বাদাম বিক্রেতা ভুবন বাদ্যকর, যিনি ‘বাদাম কাকু’ নামেই বেশি পরিচিত, আজও তাঁর পুরনো দিনের সঙ্গী, ভাঙা বাইকটিকে পরম যত্নে আগলে রেখেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে রাতারাতি তারকা বনে যাওয়া ভুবনবাবুর জীবনে অনেক পরিবর্তন এলেও, তাঁর প্রথম সাফল্যের সারথি এই বাইকটি আজও তাঁর দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

দুবরাজপুর ব্লকের কুড়ালজুড়ি গ্রামের রাস্তায় এখনও দেখা মেলে ভুবনবাবুকে তাঁর সেই পুরনো বাইকটি নিয়ে। নতুন বাইক কেনার প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করলে তাঁর অকপট উত্তর, “নতুন বাইক কেনার মতো টাকা নেই আমার কাছে। ভাইরাল তো হয়েছিলাম, কিন্তু সেই fame থেকে তেমন কিছুই পাইনি আর্থিক ভাবে। টাকা না পেলে নতুন বাইক কিনব কী করে?”

তবে শুধু আর্থিক অভাবই নয়, এই পুরনো বাইকটির প্রতি তাঁর গভীর আবেগও রয়েছে। ভুবনবাবু বলেন, “এই গাড়িটা আমার ভাগ্য membawa এসেছে। এই বাইকে চেড়েই আমি বাদাম বিক্রি করতাম। গান তৈরি, ভাইরাল হওয়া, সবকিছুই এই বাইকের সঙ্গে জড়িয়ে। এটা আমার জীবনের একটা অংশ। ভেঙে গেলেও আমি এটা বিক্রি করব না।”

পথচলতি বহু মানুষ আজও ভুবনবাবুর এই বাইকটিকে এক বিশেষ দৃষ্টিতে দেখেন। অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “আরে! এটা তো সেই ভুবন কাকুর বাইক! এখনও রেখেছেন?” উত্তরে ভুবনবাবু হাসিমুখে বলেন, “এই বাইক ছাড়ব কেন বলুন তো? ও তো আমার ভাগ্যবদলের একমাত্র সঙ্গী!”

ভাইরাল হওয়ার পর ভুবনবাবু একাধিক রিয়েলিটি শো, স্টুডিও অ্যালবাম এবং এমনকি যাত্রাতেও অভিনয় করার সুযোগ পেয়েছিলেন। সেই ঝলমলে দিনগুলোতে খ্যাতি এবং সম্ভাবনার হাতছানি থাকলেও, স্থায়ী আর্থিক স্থিতিশীলতা তাঁর জীবনে আসেনি। তবুও তিনি আশাবাদী। ঈশ্বরের উপর ভরসা রেখে ভুবনবাবু বলেন, “আমি তো বেশি কিছু চাই না। ভগবান যখন যা দেওয়ার মনে করবেন, ঠিক দেবেন। আপাতত এই বাইকটাই আমার ভরসা।” পুরনো বাইকের প্রতি ভুবন বাদ্যকরের এই অকৃত্রিম টান যেন প্রমাণ করে, খ্যাতির ক্ষণস্থায়ী আলো ঝলকানির মাঝেও শিকড়ের টান কতটা গভীর হতে পারে।