৩ লাখ টাকায় ‘সুপারি কিলার’ দিয়ে খুন তৃণমূল নেতাকে, জমি বিবাদেই চাঞ্চল্যকর মোড়

হুগলির কানাইপুরে তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য পিন্টু চক্রবর্তী ওরফে মুন্না খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এল পুলিশি তদন্তে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মাত্র ৩ লাখ টাকায় ‘সুপারি কিলার’ (ভাড়াটে খুনি) দিয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে এই তৃণমূল নেতাকে। জমি কেনাবেচা সংক্রান্ত বিবাদই এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ বলে পুলিশ জানিয়েছে। উত্তর ২৪ পরগণার বারাসাত ও শাসন এলাকা থেকে এই ভাড়াটে খুনিদের কাজে লাগানো হয়েছিল।

শ্রীরামপুরের সিপি অর্ণব বিশ্বাস জানিয়েছেন, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক কোনো কারণ এখনও পাওয়া যায়নি। বরং জমি সংক্রান্ত বিবাদই মূল কারণ বলে উঠে এসেছে। তিনি বলেন, “জমি বিবাদে এই খুন বলে এখনও পর্যন্ত জানা গিয়েছে। ভাড়াটে খুনি দিয়ে পরিকল্পনা করে খুন করা হয়েছে। এর পিছনে আরও কেউ আছে কিনা তা দেখা হচ্ছে।”

তদন্তে উঠে আসা চাঞ্চল্যকর তথ্য:
পুলিশি তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে, কানাইপুরেরই বিশ্বনাথ দাস ওরফে বিশা নামের এক ব্যক্তি ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে শাসনের বিশ্বজিৎ প্রামাণিক এবং বারাসাতের দীপক মন্ডলকে এই হত্যাকাণ্ডের জন্য ভাড়া করে। হত্যাকাণ্ডের দু’দিন আগে বিশ্বজিৎ ও দীপক বিশার বাড়িতে আসে এবং এলাকা ‘রেইকি’ করে। সিসিটিভি ফুটেজে তাদের এই ‘রেইকি’ করার দৃশ্য ধরা পড়েছে, যেখানে তাদের ফোনে কথা বলতেও দেখা যায়। পুলিশ ওই সময়ের ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে।

গত ৩০ জুলাই সন্ধ্যায় কানাইপুর অটো স্ট্যান্ডে নিজের গ্যাসের অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথে পিন্টু চক্রবর্তীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপায় দুষ্কৃতীরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা হতচকিত হয়ে গেলেও হামলাকারীরা নৃশংসতা অব্যাহত রাখে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে কানাইপুর হাসপাতালে এবং পরে কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

খুনের পর দুষ্কৃতীরা ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা হেঁটে যায় এবং পরে তাদের স্কুটারে করে স্টেশনে পৌঁছে দেওয়া হয় বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে আততায়ীদের নৃশংসভাবে কোপানোর এবং পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্য শনাক্ত করে। ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করে এবং অন্যান্য সূত্র ধরে দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের ধরা হয়। ধৃতদের আজ রবিবার শ্রীরামপুর আদালতে পেশ করা হবে।

এই ঘটনায় কানাইপুর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। স্থানীয় তৃণমূল নেতা খুন এবং তার পেছনে ভাড়াটে খুনিদের যোগসাজশের ঘটনায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে আরও কোনো বড় চক্রের হাত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে।