দিল্লির নারেলায় লোমহর্ষক খুন, প্রেমিকার বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক জেনে বহুতল থেকে ফেলে দিল প্রেমিক!

দিল্লির নারেলায় এক মর্মান্তিক ঘটনায় স্তম্ভিত গোটা শহর। ৩২ বছর বয়সী ইঞ্জিনিয়ার দীপক তাঁর ২৭ বছর বয়সী বান্ধবী সাধনা সিংকে ফ্ল্যাটের ছয় তলার বারান্দা থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে খুন করেছেন বলে অভিযোগ। সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং প্রতারণার জেরেই এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
সম্পর্কের সূত্রপাত:
দীপক এবং সাধনার পরিচয় হয়েছিল নয়ডায়, যেখানে তাঁরা একসঙ্গেই থাকতেন। দীপক নয়ডার একটি সংস্থায় কাজ করতেন, আর সাধনা হরিয়ানার ফরিদাবাদে ফ্যাশন ডিজাইনিং নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন। সম্প্রতি দীপক দিল্লির কোন্ডলিতে নতুন কাজ শুরু করেন এবং নারেলার একটি ফ্ল্যাটে উঠে আসেন। এরপরও সাধনা প্রায়ই তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসতেন।
ঝগড়ার সূত্রপাত:
পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সাধনা সম্প্রতি জানতে পারেন যে, দীপকের পরিবার তার বিয়ের জন্য অন্য মেয়ে দেখছে। এই খবর পেয়েই তিনি দীপকের সঙ্গে কথা বলতে তার ফ্ল্যাটে পৌঁছান। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দু’জনের মধ্যে প্রথমে সাধারণ কথা কাটাকাটি শুরু হলেও, কিছুক্ষণের মধ্যেই দীপকের বিয়ে নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। সাধনা বুঝতে পারেন যে দীপক তার সঙ্গে প্রতারণা করছেন, এবং এই বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়।
ভয়াবহ পরিণতি:
উত্তেজনার বশে দীপক সাধনাকে ফ্ল্যাটের ছয় তলার বারান্দায় নিয়ে যান এবং সেখান থেকে তাকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দেন। সাধনা সপাটে নিচে রাস্তায় পড়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা দ্রুত পুলিশে খবর দেন। পুলিশ পৌঁছানোর আগেই সাধনার মৃত্যু হয়। তার শরীরে মারধরের চিহ্ন, ছেঁড়া জামাকাপড় এবং মুখে রক্তের দাগ দেখে উপস্থিত সকলে স্তম্ভিত হয়ে পড়েন।
ডেপুটি পুলিশ কমিশনার হরেশ্বর স্বামী জানিয়েছেন, দীপককে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় দীপক স্বীকার করেছেন যে সেদিন সাধনার সঙ্গে তার ঝগড়া হয়েছিল এবং তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে ধাক্কা দিয়েছিলেন। পুলিশের ধারণা, সাধনার শরীরে থাকা একাধিক আঘাতের চিহ্ন প্রমাণ করে যে, রাগের বশে তাকে মারধরও করা হয়েছিল।
এই নৃশংস ঘটনা আবারও সম্পর্কের জটিলতা এবং মানসিক সুস্থতার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল।