“আত্মহত্যার ভাবনাও এসেছিল মাথায়…”, ডিভোর্সের মানসিক ধাক্কায় চরম সিদ্ধান্ত চাহালের!

একসময় ভারতীয় ক্রিকেটের ‘কিউট কাপল’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন ক্রিকেটার যুজবেন্দ্র চাহাল এবং তাঁর স্ত্রী ধনশ্রী ভার্মা। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের ছবি এবং রিলস ভক্তদের মন জয় করত। কিন্তু সেই জুটিতে চিড় ধরেছে, ধনশ্রী ভার্মার সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে যুজবেন্দ্র চাহালের। বরাবরই মানসিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী বলে পরিচিত চাহাল, যিনি ছোটবেলা থেকেই দাবা খেলতেন এবং খেলার মাঠে বারবার নিজের মানসিক দৃঢ়তা প্রমাণ করেছেন, সেই চাহালই বিবাহবিচ্ছেদের পর চূড়ান্ত দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। এতটাই ভেঙে পড়েছিলেন যে, তাঁর মনে আত্মহত্যার ভাবনাও এসেছিল। সম্প্রতি রাজ শামানির পডকাস্টে সেই কঠিন সময়কার পরিস্থিতির কথা অকপটে তুলে ধরেছেন যুজবেন্দ্র চাহাল।

যুজবেন্দ্র চাহাল বলেন যে, কোনো সম্পর্কে চিড় ধরলে তার নানা দিক প্রকাশ পায় এবং কোনো সম্পর্কই সেভাবে ভালোভাবে শেষ হয় না। তাঁর ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। বিবাহবিচ্ছেদের পর তাঁকে ‘চিটার’ বা প্রতারক হিসেবে দাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গে চাহাল বলেন, “ডিভোর্সের পর আমাকে প্রতারক হিসেবে দাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল। জীবনে কোনো দিন কারো সঙ্গে কোনো প্রতারণা করিনি। আমি কতটা বিশ্বাসযোগ্য, হয়তো প্রয়োজনের তুলনায় বেশি। ভালোবাসার মানুষদের সবটা উজাড় করে দিয়েছি।”

বিবাহবিচ্ছেদের বিষয়টি তাঁকে যে কতটা বড় ধাক্কা দিয়েছিল, সে কথাও তাঁর মুখ থেকে বেরিয়ে আসে। তিনি বলেন, “আমার মধ্যে আত্মহত্যার ভাবনাও এসেছিল। জীবনে আর কিছুই ভালো লাগছিল না। মনে হয়েছিল, সব শেষ। ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। রোজ কান্নাকাটি করতাম। দিনে খুব বেশি হলে ঘণ্টাদুয়েক করে ঘুমিয়েছি। প্রায় দেড় মাস এমন পরিস্থিতিতে কাটিয়েছি। অ্যাংজাইটি অ্যাটাক হয়েছে, মানসিক অবসাদে ভুগেছি। একমাত্র আমার কাছের লোকেরাই জানত, কী পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গিয়েছি।”

চাহাল জানান যে, তিনি এখনও পুরোপুরি নিজেকে গুছিয়ে নিতে পারেননি। নতুন কোনো সম্পর্কে রয়েছেন কিনা, এই প্রশ্নে সরাসরি উত্তর না দিয়ে তিনি ঘুরিয়ে যেন ‘না’ই বলেছেন। চাহালের কথায়, “কোনো মেয়ের সঙ্গে দেখা মানেই সম্পর্ক জুড়ে দেওয়া রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমার দুই বোন রয়েছে। মেয়েদের সম্মান করাটা জানি।”

যুজবেন্দ্র চাহালের এই অকপট স্বীকারোক্তি মানসিক স্বাস্থ্য এবং সম্পর্ক ভাঙার পর একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত সংগ্রামের এক বেদনাদায়ক চিত্র তুলে ধরেছে। একজন আন্তর্জাতিক ক্রীড়াবিদ হয়েও তার এমন ব্যক্তিগত দুর্বলতার প্রকাশ সমাজের কাছে মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব এবং ভুল ধারণার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।