দুর্গাপূজার অনুদান, বিতর্ক সত্ত্বেও অব্যাহত বৃদ্ধি, ৪৮৩ কোটি টাকা ছুঁতে পারে রাজ্য সরকারের খরচ!

বাঙালির প্রাণের উৎসব দুর্গাপূজা এখন ইউনেস্কো হেরিটেজ তকমা পাওয়ায় এক ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। তবে, পুজোকে ঘিরে রাজ্য সরকারের অনুদান বিতর্কের জন্ম দিলেও, প্রতি বছরই তার পরিমাণ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। ২০১৮ সালে ১০ হাজার টাকা দিয়ে যে অনুদান পর্ব শুরু হয়েছিল, ২০২৫ সালে তা ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকায় পৌঁছেছে, যা প্রায় ৯০০ শতাংশ বৃদ্ধি। এর ফলে রাজ্য সরকারের কোষাগার থেকে এবার দুর্গাপূজার জন্য অন্তত ৪৮৩ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঐতিহ্যগতভাবে, দুর্গাপূজার খরচ মূলত চাঁদা তুলে মেটানো হলেও, ২০১৮ সাল থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্লাবগুলিকে সরকারি অনুদান দেওয়ার রীতি চালু করেন। শুরু থেকেই এই সিদ্ধান্ত প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছিল। প্রশ্ন ওঠে, ধর্মীয় উৎসবের জন্য কেন সরকার জনগণের টাকা ব্যয় করবে? তবে সে সব বিতর্ক পিছনে ফেলেই প্রতি বছর অনুদানের অঙ্ক বেড়ে চলেছে।

অনুদানের অঙ্ক ও ক্লাবের সংখ্যা বৃদ্ধি: এক ঝলকে
২০১৮: অনুদান শুরু হয় ১০,০০০ টাকা দিয়ে। ক্লাবের সংখ্যা ছিল ২৮,০০০।

২০১৯: ক্লাবের সংখ্যা একলাফে বেড়ে দাঁড়ায় ৪০,০০০।

২০২৫: ‘ফোরাম ফর দুর্গোৎসব’-এর হিসাব অনুযায়ী ক্লাবের সংখ্যা ৪৩,০০০। তবে মুখ্যমন্ত্রী বৃহস্পতিবার ঘোষণা করার সময় জানান যে, সারা রাজ্যে প্রায় ৪৫,০০০ ক্লাব পুজো করে।

যদি ৪৫,০০০ ক্লাবের সংখ্যা ধরা হয় এবং প্রতিটি ক্লাবকে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়, তাহলে রাজ্য সরকারের মোট খরচ দাঁড়াবে প্রায় ৪৮৩ কোটি টাকা। গত বছর (২০২৪ সালে) এই খরচ ছিল ৩৬৫.৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ, এবার অন্তত ১১৭.৫ কোটি টাকা খরচ বাড়ছে।

বিদ্যুৎ বিলের ছাড়েও বাড়তি সুবিধা
শুধু অনুদান বৃদ্ধি নয়, এবার বিদ্যুৎ বিলেও ছাড়ের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, এ বছর ৮০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হবে বিদ্যুৎ বিলে, যা ক্লাবগুলির জন্য আরও একটি বড় সুবিধা।

এই অনুদান বৃদ্ধির ফলে একদিকে যেমন পুজো কমিটিগুলি আর্থিকভাবে স্বস্তি পাচ্ছে এবং আরও জাঁকজমকপূর্ণভাবে পুজো আয়োজন করতে পারছে, তেমনই অন্যদিকে সরকারি কোষাগার থেকে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। বিরোধীরা বারবার অভিযোগ তুলছেন যে, এটি আসলে ভোটব্যাংকের রাজনীতি। তবে, শাসক দল এই অনুদানকে রাজ্যের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে রক্ষা করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবেই তুলে ধরছে।