কাকদ্বীপের কোয়েলের অনন্য কীর্তি, ‘বেঙ্গল অ্যাচিভার্স পুরস্কার’ এনে দিল মিনি পেইন্টিং

তুলির টানে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছেন কাকদ্বীপের তরুণী কোয়েল পুরকাইত। মিনি পেইন্টিংয়ে নজরকাড়া সাফল্য অর্জনের পর এবার তিনি ভূষিত হয়েছেন ‘বেঙ্গল অ্যাচিভার্স পুরস্কার’-এ, যা তাকে এনে দিয়েছে ‘বেস্ট ড্রইং আর্টিস্ট’-এর সম্মান। তার শিল্পকর্মে নতুনত্বের ছোঁয়া সকলের নজর কেড়েছে।
কাকদ্বীপের স্বামী বিবেকানন্দ গ্রাম পঞ্চায়েতের সুভাষনগরের বাসিন্দা কোয়েল, প্রতাপ পুরকাইত ও মিঠু পুরকাইতের কন্যা। বাবা প্রতাপ পুরকাইত ফুড কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়াতে কর্মরত এবং মা গৃহবধূ। বর্তমানে কোয়েল কলকাতায় ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ-এ পড়াশোনা করছেন। মাত্র তিন বছর বয়স থেকেই দেবরাজ বেরা নামের এক স্থানীয় অঙ্কন প্রশিক্ষকের কাছে ছবি আঁকার প্রশিক্ষণ নেওয়া শুরু করেন কোয়েল।
সাফল্যের নেপথ্যে নিষ্ঠা ও অধ্যবসায়
নিজের এই সম্মানজনক প্রাপ্তি নিয়ে কোয়েল পুরকাইত বলেন, “আমাকে বেঙ্গল অ্যাচিভার্স পুরস্কার দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। আমি পুরস্কারটি পেয়ে খুব খুশি। আমি আগামীতে ছবি আঁকা নিয়ে আরও কাজ করতে চাই।” মেয়ের এই সাফল্যে গর্বিত বাবা প্রতাপ পুরকাইত জানান, “আমার মেয়ের জন্য আমি গর্বিত। কোয়েল ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকে। ওর ছবি আঁকাতে খুব আগ্রহ।”
শিল্পের পাশাপাশি ফিল্ম মেকিংয়েও আগ্রহ
কেবল ছবি আঁকাতেই সীমাবদ্ধ থাকতে চান না কোয়েল। তার লক্ষ্য আরও বড়। পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি ফিল্ম মেকিং নিয়েও কাজ করতে আগ্রহী। ছবি আঁকা এবং ফিল্ম মেকিং— এই দুটি ক্ষেত্রেই ভবিষ্যতে নিজেকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চান তিনি। এই লক্ষ্য নিয়েই কোয়েল দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে চলেছেন।
কোয়েলের এই অসাধারণ সাফল্যে উচ্ছ্বসিত কাকদ্বীপের বাসিন্দারা। তার প্রথম অঙ্কন প্রশিক্ষক দেবরাজ বেরাও কোয়েলের সাফল্যে দারুণ খুশি এবং আশা করেন, কোয়েল ভবিষ্যতে আরও বড় জায়গায় পৌঁছাবে। কোয়েলের এই অর্জন শুধুমাত্র তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং কাকদ্বীপের মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলের তরুণ প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণা।