পুরশুড়ায় ‘কন্যা সুরক্ষা যাত্রা’য় শুভেন্দুর আক্রমণাত্মক বার্তা, নিশানায় মমতা ও কেষ্ট মণ্ডল

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক আবহ যেন ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এবার হুগলির পুরশুড়ায় আয়োজিত ‘কন্যা সুরক্ষা যাত্রা’য় রাজ্য সরকার ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের নারী নিরাপত্তা এবং আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলকে (কেষ্ট মণ্ডল) নিশানা করেন।

কন্য সুরক্ষায় শুভেন্দুর বিস্ফোরক অভিযোগ
মঙ্গলবার হুগলির পুরশুড়ায় বিজেপির ‘কন্যা সুরক্ষা যাত্রা’ কর্মসূচি ছিল। এই যাত্রায় অংশ নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, এই রাজ্যে নারীরা সুরক্ষিত নন এবং নারী সুরক্ষার বিষয়ে তৃণমূল সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ। তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে আসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রসঙ্গ।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ
মঞ্চ থেকে শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারছেন না। তাঁর শাসনকালে নারী নির্যাতন এবং অরাজকতা বৃদ্ধি পেয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, মুখ্যমন্ত্রী শুধুমাত্র মানুষকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন এবং বাস্তবের সঙ্গে তাঁর সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি “রোহিঙ্গা” ইস্যু টেনেও তৃণমূল সরকারের সমালোচনা করেন।

কেষ্ট মণ্ডল প্রসঙ্গ ও বিস্ফোরক মন্তব্য
এদিনের সভার অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল অনুব্রত মণ্ডল, যিনি ‘কেষ্ট মণ্ডল’ নামেই পরিচিত। শুভেন্দু অধিকারী কেষ্ট মণ্ডলের প্রসঙ্গে বলেন, একজন ব্যক্তি যিনি পুলিশ আধিকারিকদের ফোন করে তাঁদের স্ত্রী ও মায়েদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন, তাঁকেই নাকি সম্প্রতি পদ দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনুব্রত মণ্ডলকে রক্ষা করছেন এবং তাঁর ছত্রছায়ায় এমন নেতারা কুকর্ম করার সাহস পাচ্ছেন। শুভেন্দুর মতে, অনুব্রত মণ্ডল আসলে কিছু নন, যাবতীয় অনিষ্টের মূল উৎস মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই।

শুভেন্দু অধিকারী এও মন্তব্য করেন যে, “বোলপুরে কেষ্টর সাথে বসে আছে, মমতাকে সরাতেই হবে।” এই মন্তব্যগুলি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন যে, “যত নষ্টের গোড়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।”

রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া
শুভেন্দু অধিকারীর এই আক্রমণাত্মক মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না এলেও, তাদের পক্ষ থেকে পাল্টা আক্রমণের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচন এবং লোকসভা নির্বাচনের আগে এই ধরনের তীক্ষ্ণ বাগযুদ্ধ রাজ্য রাজনীতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে। নারী সুরক্ষা এবং আইন-শৃঙ্খলা ইস্যু যে আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতির মূল আলোচনার বিষয় হয়ে উঠবে, তা বলাই বাহুল্য।