‘দিল্লি পুলিশের ভিডিও ভুয়ো ও সাজানো’- চাঁচলের পরিযায়ী পরিবারের বিস্ফোরক দাবি ‘বাঙালি’ হওয়ায় হেনস্থা ও নির্যাতনের অভিযোগ

দিল্লিতে ‘হেনস্থা’ ও ‘অত্যাচারের’ শিকার হওয়ার অভিযোগ তোলা মালদার চাঁচলের পরিযায়ী পরিবারটি এবার দিল্লি পুলিশের প্রকাশিত ‘ভুয়ো ভিডিও’ তত্ত্বকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে। পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, দিল্লি পুলিশ যে সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করেছে, তা সম্পূর্ণভাবে সাজানো এবং তাতে তাদের উপর চালানো আসল শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের চিত্র নেই। এই অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক ও আইনি চাপানউতোর শুরু হয়েছে।

দিল্লি পুলিশের ভিডিওতে অবিশ্বাসের কারণ
পরিবারটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, দিল্লি পুলিশ যে সিসিটিভি ফুটেজ দেখিয়ে নিজেদের অবস্থান প্রমাণ করতে চাইছে, তা বাস্তব ঘটনার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তাদের মূল অভিযোগগুলি নিম্নরূপ:

“যে জায়গাটায় দিল্লি পুলিশ নিয়ে যায়, সেই জায়গাটা দেখাচ্ছে না।”

“আমায় ধরে নিয়ে যাওয়ার ছবি সিসিটিভি ফুটেজে নেই।”

“আমাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার ছবি সিসিটিভি ফুটেজে নেই।”

“আমাকে মারার ছবি সিসিটিভি ফুটেজে নেই।”

এই দাবিগুলি সরাসরি দিল্লি পুলিশের উপস্থাপিত তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

‘বাঙালি’ পরিচয়ে হেনস্থা ও ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানের চাপ
নির্যাতিত পরিবারটি দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে প্রগতি ময়দান থানায় পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেছে। তাদের গুরুতর অভিযোগ, দিল্লিতে ‘বাঙালি’ হওয়ায় তাদের ‘হেনস্থা’ করা হয়েছে এবং ‘বাংলাদেশি তকমা’ দিয়ে অত্যাচার চালানো হয়েছে। তারা দাবি করেছেন, প্রথমে মধুবিহার থানায় তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। এরপরের দিন একটি নির্জন পার্কে নিয়ে গিয়েও তাদের উপর অত্যাচার করা হয়। আরও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে অস্বীকার করায় তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে এবং নির্যাতন চালানো হয়েছে।

পরিবারটি আরও জানিয়েছে যে, বিতর্কের মুখে ফের মধুবিহার থানায় নিয়ে গিয়ে তাদের ওপর অত্যাচার করে “কিছুই হয়নি, সাজানো ঘটনা” বলে কাগজে সই করিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এই ঘটনায় দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে ফুটেজে কারচুপি এবং আসল সত্য ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

রাজনৈতিক প্ররোচনার অভিযোগ খারিজ ও তৃণমূলের পাল্টা আক্রমণ
দিল্লি পুলিশ এই ঘটনাকে ‘রাজনৈতিক কর্মীর প্ররোচনায় সাজানো ভিডিও’ বলে দাবি করলেও, চাঁচলের পরিবার তা সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছে। তারা জোর দিয়ে বলছে যে, একটি খণ্ডিত ফুটেজ দেখিয়ে দিল্লি পুলিশ আসল অত্যাচারের চিত্র লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে।

এই ঘটনায় রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস শিশু-সহ এই পরিযায়ী পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণে নেমেছে। তৃণমূলের দাবি, দিল্লি পুলিশ বাঙালির প্রতি বিদ্বেষমূলক আচরণ করছে এবং ঘটনা ধামাচাপা দিতে মিথ্যাচার করছে। এই বিতর্ক এখন কেবল একটি পুলিশি অভিযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি বাঙালি আত্মপরিচয় এবং নিরাপত্তা নিয়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত হয়েছে।

সত্য উদঘাটনে তদন্তের গতিপ্রকৃতি কী হয় এবং কোন পক্ষ শেষ পর্যন্ত বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করে, সেদিকেই নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষ।