মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি পরিযায়ী শ্রমিকের খোলা প্রশ্ন, রাজস্থানে মাসে ৩৫ হাজার কামাই বাংলায় কত দেবেন দিদি

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী যখন রাজ্যে কর্মসংস্থান এবং বাংলার প্রতি পরিযায়ীদের আকর্ষণ বাড়ানোর বার্তা দিচ্ছেন, ঠিক তখনই রাজস্থানে কর্মরত এক বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকের প্রশ্নবাণ রাজ্যের কর্মসংস্থান নীতির প্রতি নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। মাসে ৩৫ হাজার টাকা উপার্জনের দাবি করে ওই শ্রমিক মুখ্যমন্ত্রীকে খোলাখুলি জিজ্ঞাসা করেছেন, “আপনি যদি বাংলায় কাজ দিতেন, তাহলে এতদূর ভিনরাজ্যে আসতে হত না। মাননীয়া, আপনি যে ডাকছেন, এখন বাংলায় গেলে কত টাকার কাজ দেবেন?”

রাজস্থানে ‘নির্যাতনহীন’ জীবন ও ভালো উপার্জনের দাবি
ওই পরিযায়ী শ্রমিক, যিনি নিজের নাম প্রকাশ করতে চাননি, জয়পুরে ৩৫ হাজার টাকা মাসিক বেতনে কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন। তার দাবি, “এখানে কোনো বাঙালির উপর অত্যাচার হয়নি।” এই মন্তব্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ রাজ্যের শাসকদল প্রায়শই পরিযায়ী শ্রমিকদের ভিনরাজ্যে নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ তোলে। এই শ্রমিকের বক্তব্য সেই অভিযোগের বিপরীতে এক নতুন চিত্র তুলে ধরছে। তিনি বোঝাতে চাইছেন যে, বাংলার বাইরেও বাঙালিরা নিরাপদে এবং সম্মানজনকভাবে কাজ করে ভালো উপার্জন করতে পারে।

মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি সরাসরি প্রশ্ন
শ্রমিকটি মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন, যা রাজ্যের কর্মসংস্থান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর অসন্তোষের ইঙ্গিত বহন করছে। তিনি বলেছেন, যদি বাংলায় যথেষ্ট কাজ থাকত, তাহলে তাদের পরিবার ছেড়ে এত দূরে আসতে হতো না। তার প্রশ্ন, মুখ্যমন্ত্রী যখন বাংলায় ফিরে আসার আহ্বান জানাচ্ছেন, তখন ফিরে গেলে তিনি কেমন এবং কত বেতনের কাজ পাবেন? এই প্রশ্ন রাজ্যের কর্মসংস্থান সৃষ্টির বাস্তব পরিস্থিতি এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রত্যাশার মধ্যেকার ফারাককে তুলে ধরেছে।

রাজ্য সরকারের প্রতি চ্যালেঞ্জ
এই পরিযায়ী শ্রমিকের মন্তব্য রাজ্য সরকারের কর্মসংস্থান নীতি এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। একদিকে যখন সরকার রাজ্যে বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির কথা বলছে, তখন আরেকদিকে এই ধরনের মন্তব্য প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষের কাছে সেই বার্তা কতটা পৌঁছাচ্ছে।

পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা শুধু একজন পরিযায়ী শ্রমিকের ব্যক্তিগত ক্ষোভ নয়, বরং হাজার হাজার বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকের মনের কথা। ভালো উপার্জনের খোঁজে ভিনরাজ্যে পাড়ি জমানো এই শ্রমিকরা চান, নিজেদের রাজ্যেই তাঁদের জন্য উপযুক্ত কাজের সুযোগ তৈরি হোক। এখন দেখার বিষয়, এই প্রশ্নের উত্তরে রাজ্য সরকার কী পদক্ষেপ নেয় এবং কীভাবে তারা পরিযায়ী শ্রমিকদের আস্থা অর্জন করে।