শিলিগুড়ি পুরসভায় ধুন্ধুমার, বোর্ড মিটিং থেকে কাউন্সিলরকে ‘অপমান করে বের করে দেওয়ার’ অভিযোগ

শিলিগুড়ি পুরসভার বোর্ড মিটিংয়ে আজ এক নজিরবিহীন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ উঠেছে যে, সভার মাঝপথেই এক কাউন্সিলরকে ‘অপমান করে’ মিটিং থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাউন্সিলর দিলীপ বর্মন এবং ডেপুটি মেয়রের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ হয়, যা সভার পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
পুরসভা সূত্রে জানা গেছে, এদিন বোর্ড মিটিং চলাকালীন কোনো এক বিষয়ে আলোচনা চলার সময় কাউন্সিলর দিলীপ বর্মন একটি প্রশ্ন তোলেন বা মন্তব্য করেন। অভিযোগ, সেই সময় ডেপুটি মেয়রের সঙ্গে তাঁর তীব্র তর্কাতর্কি শুরু হয়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, এক পর্যায়ে দিলীপ বর্মনকে মিটিং থেকে বের করে দেওয়া হয়।
দিলীপ বর্মন পরে সংবাদমাধ্যমকে জানান, তাঁকে অত্যন্ত অপমানজনকভাবে বৈঠক থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি শুধুমাত্র একটি ন্যায্য প্রশ্ন তুলেছিলাম, কিন্তু তার উত্তরে আমাকে অপদস্থ করা হয়েছে এবং জোর করে মিটিং থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। এটা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির প্রতি চরম অসম্মান।” তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং এর বিচার দাবি করেন।
তবে, ডেপুটি মেয়রের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। শাসক দলের পক্ষ থেকে অনেকেই এই ঘটনাকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ আখ্যা দিয়েছেন, তবে বিতর্কের মূল কারণ বা ডেপুটি মেয়রের যুক্তির বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি।
এই ঘটনা শিলিগুড়ি পুরসভার অভ্যন্তরে রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিল। বিরোধীরা এই ঘটনাকে শাসক দলের ‘একনায়কতন্ত্রের’ প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছেন এবং দাবি করছেন যে, এটি গণতন্ত্রের পক্ষে শুভ নয়। আগামী দিনে এই ঘটনা শিলিগুড়ির রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
২. কলকাতার বাইপাসে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড: প্লাস্টিক গোডাউন ও ঝুপড়ি ভস্মীভূত, স্থানীয়দের ক্ষোভ দমকলের বিলম্ব নিয়ে – মিটার রুম থেকে আগুনের সূত্রপাতের দাবি
কলকাতা, ৩০ জুলাই, ২০২৫:
আজ বুধবার বিকেলে কলকাতার বাইপাস সংলগ্ন মেট্রোপলিটন এলাকায়, জে ডব্লিউ ম্যারিয়ট হোটেলের অদূরে একটি প্লাস্টিকের গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। দাহ্য পদার্থ মজুত থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং নিমেষেই একাধিক ঝুপড়িকে গ্রাস করে নেয়, কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা এলাকা। এই ঘটনায় বহু মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন বলে জানা গেছে।
আগুনের তীব্রতা ও বিস্ফোরণের শব্দ
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দুপুর থেকেই প্লাস্টিকের গোডাউনে দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে শুরু করে। গোডাউনে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক ও অন্যান্য দাহ্য বস্তু থাকায় আগুনের তীব্রতা ছিল অত্যন্ত বেশি। স্থানীয়দের দাবি, আগুন লাগার পর থেকেই পরপর বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছিল, যা আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে তোলে। স্থানীয়দের প্রাথমিক অনুমান, মিটার রুম থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে এবং শর্ট সার্কিটের ফলেই এই বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ: দমকলের দেরিতে ক্ষোভ
আগুনের লেলিহান শিখা দেখে স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথমে জল দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। আশপাশের পুকুর থেকে জল এনে আগুন নিয়ন্ত্রণের আপ্রাণ চেষ্টা করেন তাঁরা। তবে আগুনের ভয়াবহতা এতটাই ছিল যে স্থানীয়দের পক্ষে তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগের তির দমকল বাহিনীর দিকে। তাঁরা বলছেন, আগুন লাগার খবর দেওয়া সত্ত্বেও দমকল বাহিনীর পৌঁছতে অনেক দেরি হয়েছে, যার ফলস্বরূপ আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এক ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “দমকল সময়মতো এলে আমাদের ঘরবাড়ি বাঁচানো যেত।”
ক্ষয়ক্ষতি ও মানবিক বিপর্যয়
এই বিধ্বংসী আগুনে গোডাউনটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হওয়ার পাশাপাশি তার সংলগ্ন বেশ কয়েকটি ঝুপড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বহু পরিবারের মাথার ছাদ কেড়ে নিয়েছে এই আগুন। এই মুহূর্তে তাদের আশ্রয় ও খাদ্যের সংস্থান করাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি
ঘটনাস্থলে দমকলের বেশ কয়েকটি ইঞ্জিন পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছে। প্রায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আগুন নেভানোর কাজ চলছে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, দমকল কর্মীদের চেষ্টায় আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানা গেছে, তবে সম্পূর্ণভাবে আগুন নেভাতে আরও সময় লাগবে। ফায়ার ব্রিগেড কর্মীরা জানিয়েছেন, প্লাস্টিক পোড়ার কারণে সৃষ্ট ধোঁয়া এবং অত্যধিক তাপমাত্রা আগুন নেভানোর কাজকে কঠিন করে তুলছে।
অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির সম্পূর্ণ পরিমাণ নির্ধারণের জন্য তদন্ত শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই ঘটনা ফের একবার শহরের ঘিঞ্জি এলাকায় অবস্থিত গোডাউন এবং ঝুপড়িগুলির অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিল।