মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জে গঙ্গার ভয়াবহ ভাঙন, ভিটেমাটি হারাচ্ছে অসংখ্য পরিবার

মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ ব্লকে গঙ্গা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। নদীর করাল গ্রাসে একের পর এক বাড়িঘর তলিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে বহু পরিবার তাদের ভিটেমাটি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে অন্যত্র ছুটতে বাধ্য হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু রাস্তা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে এবং আরও প্রায় ১০টি বাড়ি তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে। এর ফলস্বরূপ, প্রায় ১০টি পরিবার সম্পূর্ণভাবে গৃহহীন হয়ে পড়েছে।

ভাঙন কবলিত এলাকার বাসিন্দাদের চোখে জল আর মুখে হাহাকার। বন্দনা দাস কান্না ভেজা গলায় নিজের উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে বলছেন, “পরিবার নিয়ে কোথায় দাঁড়াব! নেই জায়গা, জমি।” নয়ন মণ্ডল ও বন্দনা দাসের মতো অসংখ্য পরিবার চোখের সামনে তাদের তিলে তিলে গড়ে তোলা সংসার ভেসে যেতে দেখছে এবং আশ্রয় হারিয়ে দিশেহারা হয়ে নতুন ঠিকানার খোঁজ করছে। ঘরবাড়ির ইট ভাঙার শব্দে সামশেরগঞ্জে এক শোকের ছবি ভেসে উঠেছে।

মুর্শিদাবাদের ভাঙন কবলিত এলাকার বাসিন্দা নয়ন মণ্ডল জানান, যে যেমন পেরেছে তাড়াহুড়ো করে ঘরের মালপত্র সরানোর চেষ্টা করেছে। অনেকে আবার ঘরের আসবাবপত্র রক্ষা করতেও পারবেন কিনা, তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন। সবটাই ধীরে ধীরে নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে। এলাকাবাসী আতঙ্কে দিশেহারা। তাদের দাবি, ভাঙন রোধের কাজ হলেও গঙ্গা যেন সবকিছু গিলে খাচ্ছে।

নতুন শিবপুরের এক বাসিন্দা আতঙ্কের সুরে বলেন, “সকালে গঙ্গায় স্নান করতে গিয়ে দেখি প্রচণ্ড স্রোতে নদীতে নৌকা ঘুরপাক খাচ্ছে। ঘরে এসে সকালের খাবার করব ভাবলাম। দেখি হুড়মুড় করে পাড় ভাঙতে শুরু করেছে। বাচ্চাদের কোনও মতে বাঁচালাম। কোনও রকমে জিনিসপত্র ঘর থেকে বার করতে শুরু করেছি। কোথায় থাকব তা আর জানি না। তবে এখন সব কিছু হারিয়ে ফেলেছি।” শ্বশুরবাড়ির ভিটেমাটি গঙ্গা গর্ভে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ভুগছেন বহু দুর্গত পরিবার।

এ বিষয়ে বিধায়ক আমিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভাঙন কবলিত এলাকায় মাটির বস্তা ফেলে দ্রুতগতিতে কাজ চলছে। তিনি আরও জানান যে, ফরাক্কা ব্যারেজ থেকে অতিরিক্ত জল ছাড়ার কারণেই এই ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। তবে, প্রকৃতির এই রুদ্র রূপের সামনে মানুষের অসহায়তা আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।