কাকদ্বীপে আচমকা হলটা কী? রাতারাতি ‘উধাও’ হয়ে যাচ্ছে সমস্ত বাস! আসল ঘটনা জানলে চমকে যাবেন

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বকখালি, কাকদ্বীপ, এবং ডায়মন্ড হারবারের সড়কপথ থেকে রাতারাতি উধাও হয়ে গেছে সমস্ত বেসরকারি বাস ও মিনিবাস। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জয়েন্ট কমিটি অফ বাস অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বুধবার পর্যন্ত তিন দিনের বাস ধর্মঘটের ডাক দেওয়ায় জেলার প্রতিটি রুটের বেসরকারি বাস পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার নিত্যযাত্রী।
রাস্তায় বেসরকারি বাসের দেখা না মেলায় অফিস, স্কুল, কলেজে যেতে দেরি হচ্ছে অসংখ্য মানুষের। তাদের একমাত্র ভরসা এখন সরকারি বাস, যেগুলিতে বাদুড়ঝোলা ভিড় করে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে হচ্ছে।
বাস অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দিনের পর দিন ধরে পুলিশের ‘জুলুম’ এবং রাস্তায় অবৈধ টোটো ও অটোর অস্বাভাবিক বৃদ্ধিই এই ধর্মঘটের মূল কারণ। তাদের অভিযোগ, এই অবৈধ যানগুলির দৌরাত্ম্যের ফলে বেসরকারি বাস মালিকরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এর পাশাপাশি, সমস্ত কাগজপত্র ঠিক থাকা সত্ত্বেও পুলিশ মোটা অংকের জরিমানা করছে, যা তাদের কার্যত দেওয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দিয়েছে। এই সমস্ত বিষয়কে কেন্দ্র করেই বাস পরিষেবা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে এক নিত্যযাত্রী শিবশঙ্কর বেরা বলেন, “স্কুলে যাব বলে বের হয়েছিলাম কিন্তু বাসের এই সমস্যার জন্য স্কুলে যেতে পারছি না। কখন গাড়ি আসবে সেই অপেক্ষায় রয়েছি।” তিনি দ্রুত গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার আবেদন জানান।
বাস সংগঠনগুলি তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে তারা লোকসানে বাস চালাচ্ছেন। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে বাস চালানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। তারা দাবি করেছেন, তাদের এই দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলির দিকেও প্রশাসনকে নজর দিতে হবে।
আপাতত বুধবার পর্যন্ত এই ধর্মঘট চলবে বলে অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে। জেলাজুড়ে রাস্তায় একটিও বেসরকারি বাস নামেনি। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসন ও বাস মালিক সমিতির মধ্যে আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান সম্ভব, যা নিত্যযাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।