নির্বাচন কমিশনের বড় পদক্ষেপ, ২০০২ সালের ভোটার তালিকা প্রকাশ, SIR-এর ভিত্তিতে যাচাই প্রক্রিয়া শুরু

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ক ও জল্পনার মধ্যেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। ২০০২ সালের বিশেষ নিবিড় সমীক্ষার (Special Intensive Revision – SIR) ভিত্তিতে তৈরি রাজ্যের ভোটার তালিকা প্রকাশের কাজ শুরু করেছে কমিশন। প্রাথমিকভাবে রাজ্যের ১০৯টি বিধানসভা এলাকার এই তালিকা ইতিমধ্যেই মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে, যা বর্তমান ভোটারদের মধ্যে সাময়িক স্বস্তি এনেছে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০০২ সালে পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা হয়েছিল এবং সেই তালিকাকে ভিত্তি করেই বর্তমান যাচাই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় কমিশন। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে মৃত ভোটার, স্থানান্তরিত ভোটার এবং ভুয়ো ভোটারদের চিহ্নিত করে তালিকা সংশোধনের কাজ করা হবে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, নির্দিষ্ট সময় অন্তর নির্বাচন কমিশন বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা পরিচালনা করে থাকে। রাজ্যগুলিতে শেষবার এই SIR হয়েছিল ২০০২ সাল থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে। বিহারে এটি হয়েছিল ২০০৩ সালে। সম্প্রতি বিহারে এই একই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রায় ৬৪ লক্ষ নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, যা নিয়ে সেখানে ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। এবার বিহারের পদাঙ্ক অনুসরণ করে পশ্চিমবঙ্গের ২৩ বছর আগের ভোটার তালিকা প্রকাশের কাজ শুরু করায় রাজ্যেও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।
প্রকাশিত তালিকাটিতে কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহ, নদিয়া, হাওড়া, হুগলি, মেদিনীপুর এবং বাঁকুড়া জেলার প্রায় শতাধিক বিধানসভা কেন্দ্রের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ভোটাররা মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের ওয়েবসাইটে গিয়ে নিজেদের নাম যাচাই করে নিতে পারবেন।
কমিশনের এই পদক্ষেপ একদিকে যেমন ভোটার তালিকা নির্ভুল করার একটি প্রচেষ্টা, তেমনই অন্যদিকে এর রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। শাসক দল এবং বিরোধীরা এই প্রক্রিয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে তাদের প্রতিক্রিয়া জানানো শুরু করেছে। আগামী দিনে এই তালিকা যাচাই প্রক্রিয়া এবং এর ফলশ্রুতি রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।