হাসনাবাদে চাঞ্চল্য, একইসঙ্গে ভারত ও বাংলাদেশের ভোটার কার্ডধারী দম্পতি, অভিযোগ পঞ্চায়েত সদস্যের

উত্তর ২৪ পরগনার হাসনাবাদে এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে, যেখানে এক বাংলাদেশি দম্পতি ভারত ও বাংলাদেশ – উভয় দেশেরই ভোটার কার্ডধারী বলে দাবি করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, এই দম্পতি ভারতে এসে অবৈধভাবে ভোটার তালিকায় নিজেদের নাম তুলেছেন বলেও অভিযোগ। এই গুরুতর অভিযোগটি তুলেছেন খোদ স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য, যিনি থানা ও জেলা প্রশাসনের কাছেও বিষয়টি জানিয়েছেন। যদিও আজ সকালে গ্রামে গিয়ে ওই দম্পতির খোঁজ মেলেনি।
ঘটনাটি হাসনাবাদের মাখালগাছা পঞ্চায়েত এলাকার। অভিযুক্ত দম্পতি হলেন আকবর আলি গাজী ও ফারহানা গাজী। তাদের নাম দুই দেশের ভোটার তালিকাতেই রয়েছে বলে অভিযোগ। ইতিমধ্যেই দুই তালিকা এবং তাদের ভোটার কার্ডের ছবিও প্রকাশ্যে এসেছে, যা এই অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে।
দম্পতির প্রতিবেশীরা অভিযোগ করেছেন যে, ২০১৯ সালে আকবর আলি গাজী ও তার স্ত্রী ফারহানা গাজী বাংলাদেশে থেকে ভারতে চলে আসেন। তারা মাখালগাছা অঞ্চলেই গিয়াসউদ্দিন গাজীর বাড়িতে বসবাস করতেন। গিয়াসউদ্দিন গাজী হলেন মাখালগাছা অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেস কমিটির সম্পাদক এবং এনআরইজি প্রকল্পের সুপারভাইজার। অভিযোগ, গিয়াসউদ্দিন গাজীর প্রভাব খাটিয়েই এই দম্পতি ভারতের ভোটার তালিকায় নাম তুলেছেন।
স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য ইবাদুল সানা এই অভিযোগের মূলে রয়েছেন। তিনি জানান, বহুবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে তিনি এই বিষয়ে জানিয়েছেন, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। ইবাদুল সানা বলেন, “২০১৯-এ উনি ভোটার হন। ২০২৩ সালে জেতার পর আমি অভিযোগ জানাই। থানায়, জেলাশাসকের কাছেও অভিযোগ জানিয়েছি। আমি চাই অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া হোক এদের বিরুদ্ধে।”
এদিকে, অভিযুক্ত দম্পতির আত্মীয় গিয়াসউদ্দিন গাজী এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “কর্মসূত্রে ওরা ওখানে ছিল। কিছুদিনের জন্য বসবাস করতে এসেছিল। ওখানে ভোটার কার্ড ছিল কি না আমার জানা নেই। তবে এখানে থাকবে বলে করেছিলেন। অনেকে এরকম করে।” তার এই মন্তব্য বিতর্ক আরও বাড়িয়েছে।
এলাকার বিধায়ক রফিকুল ইসলামকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, “বিষয়টা জানা নেই। এগুলি দেখার জন্য আমাদের প্রশাসন আছে। বিডিও নিশ্চয় ব্যাপারটা দেখবে। পুলিশ প্রশাসনও দেখবে। উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে। যারা এদেশের নাগরিক তারাই শান্তিতে থাকুক, এটা চাই।”
এই ঘটনা সীমান্ত সুরক্ষা, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং ভোটার তালিকা যাচাই প্রক্রিয়ার দুর্বলতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।