“বাংলায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া চলবে না, দামামা বাজাবো!” – বোলপুরে ভাষা আন্দোলনের মঞ্চ থেকে মমতার কড়া হুঁশিয়ারি

কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আজ বোলপুরে ভাষা আন্দোলনের প্রতিবাদ মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করলেন যে, তিনি জীবিত থাকা পর্যন্ত বাংলায় কোনও এনআরসি বা ডিটেনশন ক্যাম্প হতে দেবেন না। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্তের বিরুদ্ধে তিনি বাংলার মানুষকে “হাতা-খুন্তি” এবং “শঙ্খধ্বনি” নিয়ে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

সোমবার বোলপুরে বর্ণপরিচয়ের অক্ষর হাতে নিয়ে পদযাত্রার পর জাম্বুনি বাসস্ট্যান্ডের পথসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি বেঁচে থাকতে এনআরসি ও ডিটেনশন ক্যাম্প হতে দেব না।” তিনি আরও বলেন, “ভোটার তালিকা থেকে বাংলায় কারও নাম বাদ দিয়ে দেখুক। ছৌ-নৃত্য আছে, ঢোল আছে, শঙ্খধ্বনি আছে, দামামা বাজিয়ে দেব!” মুখ্যমন্ত্রী দৃঢ়ভাবে বলেন, “আমার অনুরোধ ভোটার তালিকা থেকে জেনুইন ভোটারদের নাম বাদ দেবেন না।”

একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভাষা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ডাক দিয়েছিলেন। অসম, হরিয়ানা, দিল্লি-সহ বিভিন্ন রাজ্যে পরিযায়ী বাংলাভাষী শ্রমিকদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ তুলে এবং বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণে “বাংলাদেশের পুশব্যাক” করার অভিযোগ এনে তিনি বাংলাজুড়ে প্রতিবাদের আহ্বান জানান। সেই সূত্রেই আজ বীরভূম থেকে এই কর্মসূচির সূচনা করেন তিনি।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত বোলপুরে বাংলা ভাষার উপর সন্ত্রাসের প্রতিবাদে মুখ্যমন্ত্রী প্রায় চার কিলোমিটার পদযাত্রা করেন। তাঁর হাতে কখনও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি, কখনও বর্ণপরিচয়-এর অক্ষর দেখা যায়। এই পদযাত্রায় তাঁর সঙ্গে ছিলেন বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায়-সহ শান্তিনিকেতনের আশ্রমিকেরা।

পথসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপিকে নিশানা করে বলেন, “গুজরাটে বসে ভোটার লিস্ট তৈরি করছে। বিজেপির এজেন্সি, ডবল ইঞ্জিন সরকারের এজেন্সিরা এসব করছে।” তিনি আসামের উদাহরণ টেনে বলেন, “আসামে সাত লক্ষ নাম বাদ দিয়েছিল। তাদের মধ্যে হিন্দুও ছিল। এখানে হতে দেব না। জো হাম সে টাকরায়ে গা চুর চুর হো জায়ে গা।”

ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বাড়ি বাড়ি সার্ভে করতে গেলে কী করা উচিত, সেই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বাংলার মা-বোনদের উদ্দেশে বার্তা দেন। তিনি বলেন, “আমার বাংলার মা-বোনেরা, বাইরের কাজ করেন, ঘরেও হাতা-খুন্তি নিয়ে কাজ করেন। বাড়ি বাড়ি ভোটার তালিকার নিয়ে সার্ভে করতে হবে, কী করতে হবে বুঝে নিন। হবে নাকি একটা খেলা? আপনাদের মতো বন্দুক-গুলি নিয়ে যাব না। শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি নিয়ে যাব।”

পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতাদের উদ্দেশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, “আজ কেন্দ্রে ক্ষমতায় আছে, তাই এজেন্সি লাগিয়ে যা ইচ্ছে তাই করছে। নিজেরা টাকা কামাচ্ছ আর এজেন্সি লাগাচ্ছ অন্যদের। কেন্দ্রে এই সরকার ২৯ সাল পর্যন্ত থাকবে না। তখন বিজেপির লোকেরা কোথায় যাবেন। কোথায় যাবে ডবল ইঞ্জিন সরকার।” বক্তব্যের শেষে তৃণমূল নেত্রী দৃপ্ত কণ্ঠে বলেন, “দরকার হলে জীবন দেব, বাংলা ভাষা কেড়ে নিতে দেব না।”

এই পদযাত্রা ও সভার মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কার্যত কেন্দ্রীয় সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে ভোটার তালিকা ইস্যুতে তীব্র আক্রমণ করে বাংলা ভাষার সম্মান ও বাঙালি পরিচয়ের সুরক্ষার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করলেন।