‘স্মার্ট ব্রেসলেট’ হাতে থাকলে প্রয়োজন হবে না মাউস-কিবোর্ড, এসে গেলো নয়া প্রযুক্তি

প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সাথে সাথে আমাদের দৈনন্দিন জীবন হয়ে উঠছে আরও সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময়। এক সময়ের কল্পবিজ্ঞানের ধারণাগুলো আজ বাস্তবে পরিণত হচ্ছে। সেই পথেই আরও এক ধাপ এগিয়ে, মেটা এবং রিয়েলিটি ল্যাবস যৌথভাবে বাজারে এনেছে এক বিপ্লবী স্মার্ট ব্রেসলেট, যা মাউস ও কিবোর্ডের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর পোশাকি নাম ‘সারফেস ইলেকট্রোমায়োগ্রাফি’ (sEMG) রিস্টব্যান্ড।
কীভাবে কাজ করবে এই ব্রেসলেট?
এই অত্যাধুনিক রিস্টব্যান্ডটি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) এবং মেশিন লার্নিংয়ের সমন্বয়ে কাজ করে। এর কার্যকারিতা পরীক্ষা করার জন্য ৩০০-এর বেশি মানুষের ওপর গবেষণা চালানো হয়েছে। এই গবেষণার মাধ্যমে সিস্টেমটি বিভিন্ন হাতের আকার, ত্বকের ধরন এবং হাতের সূক্ষ্ম নড়াচড়া বুঝতে সক্ষম হয়েছে।
ব্রেসলেটের প্রতিটি বেল্টের নিচে রয়েছে সংবেদনশীল সেন্সর, যার জন্য কোনো অতিরিক্ত সেটআপের প্রয়োজন হবে না। এটি আপনার আঙুলের নড়াচড়া, পেশীর ক্ষুদ্রতম সংকেতকেও শনাক্ত করতে পারবে এবং সেই ডেটা কম্পিউটার বা সংযুক্ত ডিভাইসে পাঠাবে। এর মাধ্যমে সহজেই অ্যাপ খোলা, মেসেজ লেখা অথবা কোনো কিছু সিলেক্ট করার মতো কাজগুলো করা যাবে।
অদৃশ্য কিবোর্ডে টাইপিং!
এই ব্রেসলেটের সবচেয়ে চমকপ্রদ বৈশিষ্ট্য হলো এটি দিয়ে ‘অদৃশ্য’ টাইপিং করা যাবে। যেকোনো সমতল পৃষ্ঠে আপনার আঙুল দিয়ে টাইপ করার ভঙ্গি করলেই ব্রেসলেটটি সেই সংকেত বুঝে ফেলবে এবং সংযুক্ত ডিভাইসে সেটি প্রতিফলিত করবে। শুধু টাইপিংই নয়, যদি আপনি বাতাসে আঙুল দিয়ে অক্ষর লেখেন, তাহলেও ব্রেসলেটটি সেটি সনাক্ত করে কাজ করবে!
গবেষক দল জানিয়েছে, এই প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য কোনো সার্জারি বা ইমপ্ল্যান্টের প্রয়োজন নেই। সেন্সরগুলো সরাসরি ত্বকের সংস্পর্শে কাজ করবে, যা ব্যবহারকারীদের জন্য এটিকে নিরাপদ এবং সুবিধাজনক করে তুলবে। এই আবিষ্কার কম্পিউটিং ইন্টারফেসে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে, যেখানে শারীরিক ইনপুট ডিভাইসের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।
এই স্মার্ট ব্রেসলেট প্রযুক্তি জগতে কতটা বিপ্লব আনবে, তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। তবে এটি যে আমাদের ডিজিটাল ইন্টারঅ্যাকশনের ধারণাকে পুরোপুরি বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।