কাকদ্বীপে বিজেপির নবনির্বাচিত জিএসকে ‘ধোলাই’ তৃণমূল না গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, উঠছে প্রশ্ন

দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপে বিজেপির নবনির্বাচিত জিএস (সাধারণ সম্পাদক) অরুণ সেনগুপ্তকে বাড়ি থেকে ডেকে এনে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায় এবং রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। এই হামলার নেপথ্যে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের হাত রয়েছে, নাকি বিজেপির অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বই দায়ী, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার দুপুরে কাকদ্বীপের নবনির্বাচিত বিজেপি জিএস অরুণ সেনগুপ্তকে তাঁর বাড়ি থেকে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা ডেকে নিয়ে যায়। এরপর তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। মারধরের পর গুরুতর আহত অবস্থায় অরুণ সেনগুপ্তকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তিনি সুস্থ রয়েছেন এবং ফ্রেজারগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অরুণ সেনগুপ্তের অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়েই তাঁর উপর এই হামলা চালানো হয়েছে। তিনি নির্দিষ্ট কোনো দলের নাম উল্লেখ না করলেও, তাঁর অভিযোগের তীর শাসক দলের দিকেই বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
তবে, এই ঘটনায় বিজেপির অন্দরেও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের প্রশ্ন উঠেছে। দলের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক নির্বাচনে অরুণ সেনগুপ্তের জয় এবং জিএস পদে তাঁর উত্থান দলের একাংশের পছন্দ ছিল না। এই অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরেই এই হামলা হয়ে থাকতে পারে। যদিও বিজেপির জেলা নেতৃত্ব এই অভিযোগ অস্বীকার করে পুরো ঘটনার জন্য তৃণমূল কংগ্রেসকে দায়ী করেছে।
অন্যদিকে, স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, বিজেপির অভ্যন্তরীণ বিবাদই এই ঘটনার কারণ এবং তৃণমূলকে অযথা জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
এই হামলার ঘটনায় কাকদ্বীপে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিয়েছে। তবে, অরুণ সেনগুপ্তের উপর হামলার আসল কারণ কি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নাকি বিজেপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল, তা জানতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।