সচেতনতা সত্ত্বেও আইন হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা, ইলামবাজারে মোবাইল চোর সন্দেহে যুবককে নির্মম প্রহার ও মাথা ন্যাড়া

বারংবার সচেতনতামূলক প্রচার চালানো সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা যেন কিছুতেই কমছে না। সম্প্রতি বীরভূমের ইলামবাজারের খরুই গ্রামে এমনই এক নৃশংস ঘটনা ফের একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল এই সামাজিক ব্যাধি কতটা গভীরে প্রবেশ করেছে। মোবাইল ফোন চুরির সন্দেহে এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবককে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে গণপ্রহার করা হয়েছে এবং তাঁর অর্ধেক মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করে আক্রান্ত যুবককে উদ্ধার করলেও, এই ঘটনা প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

রবিবার সকালে খরুই গ্রামের একটি বাড়ি থেকে মোবাইল চুরির অভিযোগে স্থানীয়রা এক যুবককে হাতেনাতে ধরে ফেলে বলে জানা গেছে। অভিযোগ, এরপরই তাঁকে mercilessly মারধর করা হয়। শুধু মারধরই নয়, উন্মত্ত জনতা তাঁকে একটি বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখে এবং ক্রমাগত চড়-থাপ্পড় মারতে থাকে। ঘটনার ভয়াবহতা এখানেই শেষ নয়। কিছু ‘অতি-উৎসাহী’ গ্রামবাসী একটি সেলুন থেকে ট্রিমার এনে ওই যুবকের মাথার অর্ধেক অংশ ন্যাড়া করে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। তারা আক্রান্ত যুবককে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে ইলামবাজার প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর পুলিশ তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই যুবক স্থানীয় নন এবং তাঁর পরিচয় ও তিনি সত্যিই চুরি করেছেন কিনা, তা জানতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

প্রকাশ্যে আইন হাতে তুলে নেওয়ার এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় পুলিশ প্রশাসন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জেলা পুলিশের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক এই প্রসঙ্গে বলেন, “বিষয়টি নিঃসন্দেহে চিন্তার। আমরা সবসময়ই সাধারণ মানুষকে এই ধরনের ঘটনায় পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করার বার্তা দিচ্ছি। তা সত্ত্বেও, কিছু ক্ষেত্রে মানুষ আইন নিজেদের হাতে তুলে নিচ্ছেন। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

গণপিটুনি যে একটি সামাজিক ব্যাধি, তা এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল। হিংসা কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে না। কোনো গুজবে প্রভাবিত না হয়ে, কোথাও কোনো সমস্যা দেখা দিলে সরাসরি পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য সাধারণ মানুষকে বারবার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। সমাজকে সুরক্ষিত রাখার দায়ভার আমাদের সকলের।